ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে পূর্ণ প্যানেলে জয় পেয়েছে বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদ সমর্থিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল। আজ শুক্রবার ভোট গণনা শেষে এই ফলাফল পাওয়া যায়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩ টি পদের সবকটিতে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ঐক্য প্যানেলের বা নীল প্যানেল। বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রত্যেকটি পদে তারা জয় লাভ করেছে।
নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট রায়হান মোরশেদ জানিয়েছেন, ভোট গণনা শেষ হয়েছে তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ এবার নির্বাচন করতে না পারায় জামায়াতে ইসলাম ও এনসিপি সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সবুজ প্যানেলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।
এনসিপির আইনজীবী ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন।
গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত আগামী এক বছরের জন্য নেতা নির্বাচনের জন্য ভোট দেন আইনজীবীরা। এবার ২০ হাজার ৭২৭ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন মাত্র ৭০৬৯ জন।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে বুধবার প্রথম দিনে ২৭৫৯ জন ও বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে ৪৩১০ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। গত ৮ বছরের মধ্যে এবার স্বল্প সংখ্যক আইনজীবী ভোট দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থক প্যানেল নির্বাচন না করায় ভোটারের উপস্থিতি কম ছিল বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবারের আইনজীবী নেতা নির্বাচনে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত আইনজীবীরা লড়ছেন ‘নীল প্যানেলে’ (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল)।
অন্যদিকে, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন ‘সবুজ প্যানেলে’ (আইনজীবী ঐক্য পরিষদ)। প্রতিটি প্যানেল থেকে ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন এবং স্বতন্ত্র ৮ জনসহ মোট ৫৪ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন।
যারা জয়লাভ করলেন:
নির্বাচনে নীল প্যানেল (বিএনপি সমর্থিত) যারা জয়লাভ করেছেন তারা হলেন সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খান।
সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান আনিস, সিনিয়র সহ- সাধারণ সম্পাদক মো. এলতুতমিশ সওদাগর অ্যানি, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাদী হাসান জুয়েল, লাইব্রেরি সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুল হাসান সবুজ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মারজিয়া হীরা, অফিস সম্পাদক মো. আফজাল হোসেন মৃধা, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সোহেল খান, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক এ.এস.এম ফিরো এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক।
কার্যকরী কমিটির ১০টি সদস্য পদে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা হলেন- ফারজানা ইয়াসমিন, মো. নজরুল ইসলাম মামুন, মো. আদনান রহমান, সৈয়দ সারোয়ার আলম নিশান, মামুন মিয়া, মো. নিজাম উদ্দিন, মো. সানাউল, মুজাহিদুল ইসলাম সায়েম, এইচ এম রেজাউল সাঈদ ও মো. শওকত হোসেন।
কারচুপির অভিযোগ:
এনসিপির আইনজীবী সংগঠন ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স এই নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে পূর্বপরিকল্পিত অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ করেছেন।
ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের মুখ্য সংগঠক সাকিল আহাম্মদ ভোট গণনার আগেই এক বিবৃতিতে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠন থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে ছিল, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহার করে এই কারচুপি করা হয়।
ভোটগ্রহণ চলাকালে জাল ভোট প্রদান, বুথের ভিতরে প্রবেশ করে ভোটারদের ব্যালটে জোরপূর্বক সিল মারা, বিরোধী প্যানেলের কমিশনার ও এজেন্টদের বের করে দেওয়া, যাচাই বাচাই ছাড়াই ব্যালট বিতরণ এবং বহু ভোটারের ভোট আগেই জালিয়াতির মাধ্যমে প্রদান করার মতো গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ভোট ডাকাতির সামগ্রিক চিত্র, যা অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের কালো অধ্যায়েরই পুনরাবৃত্তি।
অভিযোগ অস্বীকার নির্বাচন কমিশনের;
ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে গঠিত নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজয় হবে জেনেই তারা পরিকল্পিতভাবেই আগে থেকেই অভিযোগ উত্থাপন করেছে। এই অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই।
-পতাকানিউজ/এএ

