বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা পৃথক দুটি হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলম দুটি মামলার পৃথক পৃথক অভিযোগপত্র চার্জশিট গ্রহণ করে পরোয়ানা জারির এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ ও কাইয়ুম হোসেন নয়ন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তারা জানান, ট্রাকচালক মো. হোসেন এবং সিএনজি অটোরিকশা চালক সবুজ হত্যায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ট্রাক চালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে ও অটোরিকশাচালক সবুজ হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে গত বছর ২৩ নভেম্বর ও ২৭ নভেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
দুই মামলায় চৌষট্টি জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এদের মধ্যে শেখ হাসিনাসহ ৪১ জন পলাতক। এ ৪১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলা
গত ২৩ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ চার্জশিট দাখিল করা হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্রদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি চলমান ছিল। মামলার ভিকটিম মো. হোসেন (২৫) একজন ট্রাকচালক। গত বছরের ১৯ জুলাই দেশের আন্দোলনের কারণে ঢাকার রাস্তায় কারফিউ জারি থাকায় গাড়ির সমস্যা হতে পারে অনুমান করে গাবতলী পার্কিং করে নিজের ভাড়া বাসায় যাচ্ছিলেন তিনি। মো. হোসেন মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় হোসেন মার্কেটের সামনে গার্মেন্টস পর্যন্ত পৌঁছামাত্র গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এসময় আরও কয়েকজন আহত হয়।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নিহত হোসেনের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
সিএনজি অটোরিকশা চালক সবুজ হত্যা মামলা
গতবছর ২৭ নভেম্বর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৪ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আল্লাহ করিম মসজিদের সামনে গুলিবিদ্ধ হন অটোরিকশাচালক সবুজ। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর ওইদিন মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলার করেন নিহত সবুজের ভাই মনির হোসেন।
দুই মামলায় যাদের মধ্যে পরোয়ানা জারি হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন- শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাসান মাহমুদ, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, সাবেক এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমান প্রমুখ।
পতাকানিউজ/এএ/আরবি

