পাইকারি ও খুচরা বাজারে সেঞ্চুরি পার করেছে পেঁয়াজ। পেঁয়াজের দামে বিপাকে ভোক্তারা। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২৫-৩০ টাকা। অথচ গত অক্টোবর মাসে খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৭৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি। কিন্তু নভেম্বর মাসের শুরুতে সেঞ্চুরি হাকায় পেঁয়াজের দাম। তবে চলতি মাসজুড়ে বাড়তি দামেই পেঁয়াজ কিনতে হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়ত সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে পাইকারিতে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। আর খুচরা ১১০-১১৫টাকা। পাইকারিতে দাম বাড়ায় প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
আড়তদাররা জানান, পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হওয়ার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে। দেশে এবার উৎপাদন ভালো হওয়ায় বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে কম। বর্তমানে চাহিদার সংকট তৈরি হওয়ায় লাফিয়ে বাড়ছে দাম। পাইকারি বাজারে মানভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা পর্যন্ত। এসব পেঁয়াজ আসছে ফরিদপুর, কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ি থেকে।
এনবিআর তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) জুলাই থেকে অক্টোবর মাসে দেশে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ১৩ হাজার টন। গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার টন। অর্থাৎ এই সময়ে গত বছরের তুলনায় ২ লাখ ৩৩ হাজার টন পেঁয়াজ কম আমদানি হয়েছে।
ভাসমান ব্যবসায়ী মো. রফিক বলেন, ‘আমরা ভ্যানগাড়িতে পণ্য বিক্রি করি। বর্তমানে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ থেকে পাইকারিতে ১০০ টাকা কেজি পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। তাহলে আমরা খুচরায় বিক্রি করব কত? দাম বাড়ায় বিক্রিও কমেছে। আগে মানুষ ১-২ কেজি কিনত এখন কিনছে আধা কেজি। কেউ কেউ ২৫০ গ্রামও নিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ কি করবে, উপায় তো নেই।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত অর্থবছরে জেলায় ৯১ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৬৭১ টন। চলতি অর্থবছরে ১০২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৯২ টন। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে চলতি বছর চট্টগ্রামের পেঁয়াজেই বাজারের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে পেঁয়াজের সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বাড়ছে। সরবরাহ বাড়লে দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তবে বাজারে আমদানির পেঁয়াজ নেই । এছাড়া দেশি পেঁয়াজের মৌসুমও শেষ হয়েছে। চলতি মাস পর্যন্ত দাম বাড়তি থাকতে পারে। তবে ডিসেম্বরে বাজারে পেঁয়াজ আসা শুরু হলে দাম কমবে।
চাক্তাই আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল কাশেম জানান, ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর চাপ বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ নেই। পেঁয়াজ কাঁচাপণ্য তাই মজুদ করে বেশি দামে বিক্রির সুযোগ নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবার দাম কমবে।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, বাজারে পেঁয়াজের সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী পেঁয়াজ বাজারে আসছে না।’
এদিকে বাজারে পেঁয়াজের দাম শতক ছাড়িয়ে যাওয়ায় আমদানির সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)। ট্যারিফ কমিশন বলছে, এক কেজি পেঁয়াজের দাম সর্বোচ্চ ১১০ টাকা ওঠায় দ্রুত আমদানির অনুমতি দেয়া যেতে পারে। প্রতিবছর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসে পেঁয়াজের দাম বাড়ে।
গত বৃহস্পতিবার পেঁয়াজ আমদানির সুপারিশ করে বাণিজ্য সচিব ও কৃষিসচিবকে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। ট্যারিফ কমিশন সম্প্রতি স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধিতে সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে।
অপরদিকে চলতি সপ্তাহে বাজারে পেঁয়াজের দাম কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না নামলে আমদানি অনুমোদন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। রবিবার, ৯ নভেম্বর সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
পতাকানিউজ/আরবি

