কক্সবাজারের পেকুয়ায় প্রতিবন্ধী সংগঠনের সদস্য সংগ্রহের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে স্থানীয়রা। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৩ হাজার ৫৯০ টাকা ও ৪০টি ফরম জব্দ করা হয়েছে। পরে তাদের পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে তাদের আটক করা হয়। তবে চেয়ারম্যান উপস্থিত না থাকায় রবিবার (৪ অক্টোবর) ইউপি কার্যালয়ে হাজির হওয়ার শর্তে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
আটকরা হলেন- পেকুয়া উপজেলা প্রতিবন্ধী সংগঠনের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেওয়া নুরুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক বেলাল উদ্দিন এবং তাদের সহযোগী আরাফাত হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে পেকুয়া পৌরসভার পূর্ব গোঁয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে পাঁচ শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু প্রতিবন্ধী জড়ো হন। স্থানীয়রা তাদের জড়ো হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, মাইকিং শুনে তারা সেখানে এসেছেন।
সেখানে উপস্থিত প্রতিবন্ধীরা জানান, তিন ব্যক্তি নিজেদের প্রতিবন্ধী সংগঠনের নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলে তাদের ফরম পূরণ করতে বলেন।
অভিযোগ রয়েছে, ফরম পূরণের জন্য জনপ্রতি ১০০ টাকা এবং সংগঠনের সদস্য হওয়ার জন্য আরও ৪০০ টাকা করে নেওয়া হয়। এভাবে ৪৪ জনের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাজ্জাদ হোসেন ও গ্রাম পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়ে যান।
প্রতিবন্ধী সংগঠনের সদস্য হতে আসা কয়েকজন জানান, শুক্রবার এলাকায় মাইকিং করে প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা জানানো হয়। শনিবার সকালে প্রতিবন্ধীদের বিদ্যালয়ে আসতে বলা হয়। মাইকিং শুনে তারা সেখানে যান। পরে প্রথমে ১০০ টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করতে এবং সংগঠনে নাম লেখানোর জন্য আরও ৪০০ টাকা দিতে বলা হয়।
তারা আরও জানান, রবিবার সকালে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি নিয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সেখানে ‘পাসবই’ দেওয়ার কথাও বলা হয়। তবে পুরো বিষয়টি আসল নাকি ভুয়া, তা তারা জানতেন না। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ এসে ওই তিনজনকে নিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, বিদ্যালয়ের মাঠে বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড় দেখে তিনি বিষয়টি জানতে চান। তখন তাকে জানানো হয়, প্রতিবন্ধীদের নাম সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধার কথা বলে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে জানতে পেরে তার সন্দেহ হয়। এরপর তিনি গ্রাম পুলিশকে বিষয়টি জানান।
ইউপি সদস্য সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে কিছু টাকা ও ৪০টি ফরম জব্দ করে তিনজনকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জনের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফরমগুলোতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কিংবা টাকা আদায়কারীদের কোনো স্বাক্ষর নেই। এমনকি ফরম পূরণকারীদেরও কোনো স্বাক্ষর নেই। সেখানে শুধু নাম ও মোবাইল নম্বর লেখা রয়েছে।
সাজ্জাদ হোসেন আরও বলেন, মাইকিং করে প্রতিবন্ধীদের জড়ো করা হলেও বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় কিংবা ইউনিয়ন পরিষদকে জানানো হয়নি। জড়িতদের পরদিন পরিষদে এসে চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করতে বলেছেন তিনি।
এদিকে, বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন পেকুয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ তৈয়ব আলী।
প্রতিবন্ধীদের পূরণ করা ফরম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ফরমে ‘পেকুয়া উপজেলা প্রতিবন্ধী সংগঠন’ লেখা রয়েছে। তবে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের কোনো স্বাক্ষর নেই। ফরম পূরণকারীদের স্বাক্ষরও পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে নুরুল আমিন নিজেকে পেকুয়া উপজেলা প্রতিবন্ধী সংগঠনের সভাপতি দাবি করে বলেন, ‘আমরা একদিন আগে মাইকিং করেছি, যারা সরকারি সুবিধাভোগী প্রতিবন্ধী, তাদের আসতে বলেছি। প্রতিবন্ধীদের কল্যাণের জন্যই টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকাগুলো কৃষি ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে জমা থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, যারা সংগঠনের সদস্য হয়েছেন, তাদের কাছ থেকে ফরমসহ মোট ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তাদের ‘পাসবই’ দেওয়া হবে। তবে কোনো ধরনের পূর্বানুমতি না নেওয়া ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। তার দাবি, সংগঠনের ৪৫ জনের নিবন্ধন রয়েছে।
পতাকানিউজ/এমজেসি/এমএম

