বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে তরুণদের গণআন্দোলনে সরকার পতনের পর এবার ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকার নিজেদের নিরাপত্তা কৌশল পুনর্বিবেচনায় ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। সমালোচকরা বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলে তিনটি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত হতে দেখে বিজেপি সরকারও অস্বস্তিতে রয়েছে। তাদের ধারণা, তরুণ প্রজন্মের অস্থিরতা ও আন্দোলনের আগুন একসময় ভারতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিতে হয়েছে ভারতে। অথচ, বাংলাদেশের তরুণ সমাজের বড় একটি অংশ এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছে। ভারতীয় নীতিনির্ধারকেরা জানেন, রাজনীতির নানা হিসাবনিকাশে এই আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এর প্রভাব সীমান্তের ওপারে তরুণদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। ফলে, এখন দিল্লিতে আতঙ্ক বিরাজ করছে যে, দেশটির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যদি ক্ষোভ জমে ওঠে, তাহলে তা প্রবল গণবিক্ষোভে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে অসন্তুষ্ট জনগোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়মিত দৃশ্যমান হয়।
এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ১৯৭৪ সালের পর থেকে ভারতে যত আন্দোলন হয়েছে, সেগুলোর কারণ, আর্থিক যোগান এবং ফলাফল খুঁজে বের করতে হবে। এজন্য পুলিশ গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যুরোকে (বিপিআরঅ্যান্ডডি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ সংস্থাটি রাজ্য পুলিশের সিআইডি রিপোর্ট, পুরোনো মামলার নথি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে আন্দোলনের মূল কারিগর, অর্থের উৎস এবং কার্যপ্রণালী চিহ্নিত করবে। পরে একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ তৈরি করবে, যা ভবিষ্যতে কোনো আন্দোলন হলে তা দমন করার নকশা হিসেবে ব্যবহার করবে সরকার।
শুধু রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, ধর্মীয় সমাবেশে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, পদদলন রোধ এবং পাঞ্জাবে খালিস্তানি আন্দোলনের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতেও নতুন কৌশল নেওয়া হচ্ছে। এর জন্য কেন্দ্রীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এবং জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) সরাসরি মাঠে নামবে। পাঞ্জাবের জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হবে, যারা উগ্রবাদ দমনে কাজ করবে।
একই সঙ্গে জেল থেকে নেটওয়ার্ক পরিচালনা করা নেতাদের অন্য জেলায় স্থানান্তরের মতো কৌশল গ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকারের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় বলা হচ্ছে, তরুণদের নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে বহুমাত্রিক ও শক্ত হাতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে আন্দোলন নতুন কিছু নয়, তবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে সাম্প্রতিক সরকার পতনের পর কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের সম্ভাব্য বিস্ফোরণ নিয়ে শঙ্কিত নীতি নির্ধারকেরা আন্দোলন ঠেকাতে আগেভাগেই কাঠামোগত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর ফলে প্রশ্ন উঠছে—ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জনগণের আন্দোলনকে সরকার কতটা জায়গা দেবে, আর কতটা দমন করবে।
পতাকানিউজ/এনটি

