বগুড়ায় দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও মন্ত্রীত্বের স্বাদ পেলেন বগুড়ার মানুষ। মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
এদিকে মন্ত্রিসভায় বগুড়ার প্রতিনিধিত্ব পাওয়ায় খুশিতে ভাসছেন বগুড়ার মানুষ। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এর আগে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৫৩ বছরে ছয় দফা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলেও বগুড়ায় কোনো মন্ত্রী দেননি।
মীর শাহে আলম বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এর আগে আটমুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।
বগুড়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে মন্ত্রিত্বের সুযোগ খুব বেশি আসেনি। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া সদর আসন থেকে নির্বাচিত অ্যাডভোকেট মজিবর রহমানকে অর্থ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে জেলার আর কোনো প্রতিনিধি মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।
তবে ২০০১ সালে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচিত হবার পর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু মন্ত্রী হিসেবে ৩৫ বছর পর মীর শাহে আলম দায়িত্ব পেলেন।
এর আগে বিএনপি শাসনামলে অর্থ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান ছাড়াও ২০০১ সালে মন্ত্রী করা না হলেও প্রতিমন্ত্রীর পদ মর্যাদায় জাতীয় সংসদের হুইপ নিযুক্ত করা হয় বগুড়া- ২ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য রেজাউল বারী ডিনাকে।
এছাড়াও রাস্ট্রপতি এরশাদের শাসনামলে মন্ত্রী নিযুক্ত হন বগুড়ার মামদুদুর রহমান চৌধুরী, এবিএম শাহজাহান, মোজাফ্ফর হোসেন, কর্নেল (অব) আব্দুল মমিন মন্ডল।
২০১২ সালে শেখ হাসিনার সরকার চতুর্থবারের মতে মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণ করেন। কিন্তু সেখানেও স্থান হয়নি বগুড়ার কোন এমপির। দেশের ইতিহাসে সবচে বড় মন্ত্রীসভা গঠন হলেও তাতে বগুড়ার প্রতিনিধিত্ব ছিল না। অথচ ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে স্রোতের বিপরীতে ভোট দিয়ে বগুড়ার মানুষ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে বগুড়ার দুটি আসন উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় মন্ত্রী না করায় খোদ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যেই ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছিল।
শুধু তাই নয়, স্বাধীনতার পর থেকে (১৯৭১-২০২৪) সাল পর্যন্ত ৫৩ বছরে বগুড়ায় কোন মন্ত্রী দেয়নি আওয়ামী লীগ। ১৯৭২-৭৫, তারপর ১৯৯৬-২০০১ এবং সর্বশেষ ২০০৯-২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলেও বগুড়ায় কাউকে মন্ত্রী করেননি।
বগুড়া লেখক চক্রের সভাপতি কবি ইসলাম রফিক বলেন, `তারেক রহমান বগুড়া থেকে নির্বাচিত হবার কারণে আমাদের আশা ছিল আমরা এবার প্রধানমন্ত্রী পাবো। কিন্তু হয়তো দলীয় কারণে তিনি এ আসন ছেড়ে দিয়েছেন। তবে আমাদেরকে আশাহত করেননি। এজন্য আমরা তাকে সাধুবাদ জানাই।’
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব বলেন, `৩৫ বছর পর বগুড়ায় মন্ত্রী হিসেবে আমাদের নেতা মীর শাহে আলমকে মনোনীত করায় দলের প্রধান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।‘
বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল বলেন, `৩৫ বছর পর বগুড়ার মানুষ মন্ত্রী পেলেন। দীর্ঘদিনের আক্ষেপ সেই আক্ষেপ থেকে বগুড়াবাসী মুক্তি পেল।’
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘বগুড়ার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ ও পরামর্শ নিয়ে যতটুকু করার করবো ইনশাল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘১৭ বছর ধরেই বগুড়া অবহেলিত। আমরা চেষ্টা করবো পিছিয়ে পড়া জায়গাগুলো চিহিৃত করে দ্রুত কাজ করার।’
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

