লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে প্রতিরোধে মুখে ফিরে গেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ভাটার মালিক ও শ্রমিকরা কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে সড়কে টায়ার পুড়িয়ে বিক্ষোভ করেন। বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর বিকেলে উপজেলার চররমিজ ইউনিয়নের চৌধুরী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আমজাদ হোসেন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উপজেলার চররমিজ ইউনিয়নে মেসার্স জেএস ব্রিকস, ওহাব ব্রিকস ও আমানত ব্রিকস গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এসময় আমানত ব্রিকসকে দুই লাখ ও ওহাব ব্রিকসকে তিন লাখসহ সাত লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ৫ টি ভেক্যু মেশিনের সাহায্যে ভাটার চুল্লি, চিমনি এবং কাঁচা ইট বিনষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এসময় ভাটার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
অভিযানে অংশ নেয় পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন, ঢাকা কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশিকুর রহমান, লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠান, রামগতি থানার ওসি কবির হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঘটনার সময় তিনটি ভাটায় অভিযান শেষে আরেকটি ভাটায় যাওয়ার পথে উপজেলার চররমিজ ইউনিয়নের চৌধুরী বাজার এলাকায় কর্মকর্তাদের পথরোধ করে বিক্ষুদ্ধ হাজারো শ্রমিক। একপর্যায়ে তারা কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে সড়কে টায়ার পুড়িয়ে বিক্ষোভ করেন। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে রাস্তায় বসে যায়। দুই ঘণ্টাব্যাপী এ ‘দেনদরবার’ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইউএনওসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের কাছে আপাতত অভিযান স্থগিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ইউএনও সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন, ‘রামগতি ও কমলনগরে ৫১ টি ইটভাটা রয়েছে। এরমধ্যে ৪৯ টি ভাটা অবৈধ। সেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করা হয়েছে। ৩টিতে অভিযান হয়েছে। উত্তেজিত শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করায় অভিযান স্থগিত করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠান বলেন, ‘জেলাতে শতাধিক অবৈধ ইটভাটা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলোতে অভিযান চালানো হবে। অভিযানের প্রথমদিন তিনটি ভাটা বিনষ্ট করা হয়েছে। পরে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিশৃঙ্খলা করেছে।’
লক্ষ্মীপুরে জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার বলেন, ‘রামগতিতে অভিযানকালে ইটভাটা শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করেছে। এজন্য হানাহানি, রক্তারক্তি এড়াতে সাময়িকভাবে অভিযান স্থগিত করা হয়। তবে জেলাব্যাপী আমাদের এ অভিযান চলবে।’
পতাকানিউজ/কেকে/এএইচ

