কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি প্রায় দশ বছর পর প্রথমবারের মতো সরকারী সফরে চীন যাচ্ছেন, যেখানে তিনি কানাডা‑চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনা ও শক্তিশালী করার চেষ্টা করবেন। এই সফরটি কানাডার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর কৌশলের অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে, বিশেষত এমন সময়ে যখন কানাডা–যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।
কার্নি বুধবার বেইজিং পৌঁছেছেন এবং তিনি শনিবার পর্যন্ত চীনে থাকবেন। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং পরবর্তী পর্যায়ে মানবাধিকার, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে আলোচনা করবেন। সফরের পর তিনি কাতার ঘুরে পরবর্তীতে স্বিৎসারল্যান্ডে World Economic Forum-এর বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো
কার্নির এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কানাডার দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ও বাণিজ্য চাপের কারণে কানাডা তার সংক্ষেপিত অর্থনৈতিক নীতি পুনর্বিবেচনা করছে। ট্রাম্প শুল্ক আরোপের পাশাপাশি এমন মন্তব্যও করেছেন যে কানাডা “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম” হতে পারে—এটি কানাডার পক্ষ থেকে সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কার্নি ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে আগামী দশকভিত্তিতে কানাডার আমেরিকার বাইরের রপ্তানি দ্বিগুণ করা তার অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেছেন, “বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য বিভ্রাটের এই সময়ে কানাডা একটি আরও প্রতিযোগিতামূলক, টেকসই ও স্বাধীন অর্থনীতি গড়ার দিকে মনোনিবেশ করছে।”
সম্পর্ক পুনঃস্থাপনা ও বাণিজ্য আলোচনা
চীন এবং কানাডার সম্পর্ক ২০১৮ সালে সহিংস হয়ে ওঠে যখন কানাডা হুয়াওয়ে কোম্পানির এক শীর্ষ নির্বাহীকে গ্রেফতার করে, এবং পরবর্তীতে চীন দুই কানাডীয় নাগরিককে জন্দাভুক্ত করে। এই ঘটনায় সম্পর্কের মধ্যে দীর্ঘ সঙ্কট শুরু হয়। পরবর্তীতে কানাডা ২০২৪ সালে চীনা বৈদ্যুতিক যানবাহনে ১০০% শুল্ক আরোপ করলে চীনও পাল্টা কানাডার ক্যানোলা, সামুদ্রিক খাদ্য ও শুকরের মাংসে শুল্ক আরোপ করে।
তবে চীন সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছে যে যদি কানাডা তাদের শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়, তবে তারা কানাডীয় পণ্যে আরোপিত কিছু শুল্ক তুলে নিতে প্রস্তুত।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, তারা কার্নির সফরকে একটি নতুন সূচনাস্বরূপ হিসেবে দেখে এবং কানাডা‑চীন সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে আগ্রহী।
বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিত
বিশ্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই সাক্ষাৎ সম্পূর্ণভাবে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন নয়, বরং একটি কৌশলগত ও কূটনৈতিক রিব্যালেন্স যা বিভিন্ন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে কানাডাকে একটি শক্ত অবস্থানে রাখতে সাহায্য করবে। কানাডা তার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি উভয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিত সহযোগিতা চাইছে।
কার্নি তার চীন সফরের পর ভারতেও একটি সফর করার পরিকল্পনা করছেন, যেখানে তিনি কানাডা‑ভারত সম্পর্কও আরও জোরদার করার দিকনির্দেশনা অনুসন্ধান করবেন।
-সূত্র : এপি নিউজ
-পতাকানিউজ

