প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ১ অক্টোবরের ফেনী সফর কেন্দ্র করে জেলায় নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার প্রস্তুতি। নিরাপত্তার স্বার্থে পরশুরাম ও ফুলগাজীর সভাস্থলগুলোকে রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট-এ তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। সফরের দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তায় কেবল পুলিশেরই ২ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে।
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ফেনী জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক চূড়ান্ত নিরাপত্তা সমন্বয় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম ও পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সভাস্থলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকা ‘রেড জোন’ এবং দ্বিতীয় স্তরের ‘ইয়েলো জোন’-এ প্রবেশের জন্য পাস বা বিশেষ সিকিউরিটি কার্ডের প্রয়োজন হবে। এই দুই জোনের বাইরে থাকা উন্মুক্ত এলাকা ‘হোয়াইট জোন’ হিসেবে গণ্য হবে, যেখানে সাধারণ জনগণ অবস্থান করতে পারবেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার জানান, এসএসএফ-এর পাশাপাশি পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখবে।
ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের দিন পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় পুলিশের দুই হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সব স্থানে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তায় কাজ করবে।
আগামী ১ অক্টোবর সকালে প্রধানমন্ত্রী পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন এবং সেখানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন।
এরপর ফুলগাজীতে এসে খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ, ৯৬২.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল উদ্বোধন এবং ডাকবাংলোয় বিশ্রাম নেবেন। বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-পুরোহিতদের ভাতা এবং শিক্ষা ও মানবিক সহায়তা প্রদান কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। পরে স্থানীয় সুধী সমাজ ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে সড়ক সংস্কার, হেলিপ্যাড নির্মাণ, সভাস্থলের মঞ্চ তৈরি এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সফরকারীদের সুবিধার জন্য বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার নিশ্চিতকরণে কাজ করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, সভাস্থলে নিরাপত্তাব্যবস্থাকে তিনটি জোনে ভাগ করা হবে। এগুলো হলো- রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট জোন। রেড জোনে যারা প্রবেশের সুযোগ পাবেন, তাদের বিশেষ সিকিউরিটি কার্ড দেওয়া হবে। ইয়েলো জোনের জন্য থাকছে আলাদা কার্ড। যারা এই কার্ড পাবেন, তারাই কেবল ইয়েলো জোনে যেতে পারবেন। রেড ও ইয়েলো জোনের বাইরে যে এলাকা থাকবে, সেটি বিবেচিত হবে হোয়াইট জোন হিসাবে। এই জোনে প্রবেশ করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী সড়ক পথে পরশুরাম যাবেন। পরে ফেরার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্ধারিত থাকলেও পরবর্তীতে তা পুনর্নির্ধারণ করে ১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়।
পতাকানিউজ/এএএম/আরবি

