প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো বগুড়া সফরে যাচ্ছেন সোমবার, ২০ এপ্রিল। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবার পর বগুড়ার সন্তান হিসেবে এটি তার প্রথম বগুড়া সফর। দিনব্যাপী সরকারি নানা কর্মসূচিতে তিনি ব্যস্ত সময় কাটাবেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখার জন্য নেতাকর্মী সমর্থক এবং বগুড়ার আপামর জনসাধারণ উদগ্রিব হয়ে আছেন। এজন্য শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। বৈশাখের তপ্ত দুপুরে জনসভা লোকে লোকারণ্য হবে হবে আশা করছেন দলীয় নেতার্মীরা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, সোমবার প্রধানমন্ত্রী নিজ বাসভবন থেকে সকাল ৬টায় সড়ক পথে ঢাকা থেকে বগুড়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় বগুড়া সার্কিট হাউসে উপস্থিত হওয়ার পর সকাল ১১টায় তিনি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নবনির্মিত আইনজীবী সমিতির ভবন এবং ই-বেলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া পৌরসভায় উপস্থিত হয়ে নবসৃষ্ট বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচন করবেন। দুপুর পৌনে ১টায় বাগবাড়িতে উপস্থিত হয়ে তিনি জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন এবং শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন।
এরপর বিকেল তিনটায় শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় ভাষণ দিবেন। পরে সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধন, ৫টা ৫০ মিনিটে বায়তুল রহমান কেন্দ্রীয় মসজিদের পুণঃনির্মাণ কাজের উদ্বোবন করবেন। সন্ধ্যায় তিনি সড়ক পথে ঢাকায় ফিরে যাবেন।
এদিকে সকাল সাড়ে ১১টায় বগুড়ার দেড়শ বছরের পুরোনো পৌরসভাকে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বগুড়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা শাজাহান আলম রিপন জানান, সিটি করপোরেশন বাস্তবায়ন হলে নাগরিক দুর্ভোগ কমবে। তিনি বলেন, বগুড়া পৌরসভা দেশের অন্যতম বৃহৎ পৌরসভা। প্রায় এক যুগ আগেই এটিকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। বাস্তবায়ন হলে সেবার মান যেমন বাড়বে, তেমনি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পাবে।
পৌরসভা প্রশাসক রাজিয়া সুলতানা বলেন, বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। সিটি করপোরেশন হলে কাজের পরিধি, কর্মপরিসর ও নাগরিক সুবিধা অনেক বাড়বে। বর্তমানে ৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে বগুড়া পৌরসভা সিটি করপোরেশনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে।
প্রসঙ্গত, ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভার আয়তন প্রায় ৭০ বর্গকিলোমিটার। ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ পৌরসভায় প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস।
এর আগে তিনি আইনজীবীদের জন্য নবনির্মিত আধুনিক বার ভবন উদ্বোধন করবেন। এরপর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কনফারেন্স রুমে দেশের প্রথম ‘ই-বেইল বন্ড’ (ইলেকট্রনিক জামিননামা) ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবেন। বগুড়া থেকেই এ ডিজিটাল জামিন প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সমাবেশস্থল ও আশপাশ এলাকা সংস্কারের পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এদিন বিকেল পৌনে তিনটায় তারেক রহমান দীর্ঘ দুদশক পর বগুড়ায় নিজ পৈত্রিক ভিটায় যাবেন। প্রধানমন্ত্রী হয়ে প্রথমবার তার আসাকে ঘিরে নুতন রূপে সেজেছে বগুড়া শহর এবং তার বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বাগবাড়ি।
সফরের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল বাগবাড়ি এলাকা পরিদর্শন করেছে। বাগবাড়িতে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ নিরাপত্তার জন্য কাজ করছে।
বিএনপির চেয়ারম্যানের সফর ঘিরে দলীয় বিভিন্ন প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের বগুড়ার জন্য এক গুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে করে নিয়ে আসছেন। তিনি বগুড়া সিটি করপোরেশন উদ্বোধনসহ আরও অনেক কর্মসূচিতে অংশ নিবেন এবং পর্যায়ক্রমে ১৮ বছর ধরে বঞ্চিত বগুড়াবাসীর উন্নয়নের প্রত্যাশাও পূরণ করবেন।’
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

