অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পথচলার ইতি টেনে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের হাত ধরে শুরু হলো নতুন সরকারের যাত্রা। প্রায় দুই যুগ পর যাত্রা শুরু হলো বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারেরও।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১৮ মাস পর নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হলো এ সরকার।
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টার পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ান। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এবার দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবন-এর পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম সিরাজউদ্দিন মিয়া।
এসময় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতারাও।
এছাড়াও অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং তাদের মেয়ে জাইমা রহমান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদ ভবনের নিচতলার শপথ কক্ষে দুই ভাগে শপথ নেন নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যরা। প্রথমে বিএনপিসহ তাদের জোটের সংসদ-সদস্য, এরপর জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের সংসদ-সদস্যরা এবং সবশেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র সংসদ-সদস্যরা শপথ নেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারে ছিল বিএনপি। ২০ বছর পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে দলটি।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতৃত্বের এ মন্ত্রী পরিষদে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ২৫ জন। এছাড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ৪৯জন। এছাড়া তাদের মধ্যে ৩ জন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীও রয়েছেন।
এবারের মন্ত্রীসভায় নতুন মুখ আছে অনেক, যারা আগে কখনও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হননি। প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নেওয়া নেতাও রয়েছেন।
মন্ত্রীদের ২৫ জনের মধ্যে ১৬ জনই নতুন মুখ। প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ২৪ জনই নতুন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এবারই প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনে ভোট স্থগিত করা হয়। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়লাভ করে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন, এনসিপি পেয়েছে (১১ দলীয় জোট) ৬টি আসন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২টি আসন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে ১টি আসন, গণঅধিকার পরিষদ পেয়েছে ১টি আসন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি পেয়েছে ১টি আসন, গণসংহতি আন্দোলন পেয়েছে ১টি আসন, খেলাফত মজলিস পেয়েছে ১টি আসন, স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছে ৭টি আসন।
নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিলেন ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৪ জন। নারী প্রার্থী ৮০ জন। এবারের নির্বাচনে মোট ১১৯টি প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোট পড়ে বলে জানায় ইসি।
এরপর শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নিয়ম অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সেই নিয়ম মেনেই শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পতাকানিউজ/আরবি

