মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর বস্তি এলাকায় এক প্রবাসী নারীর বসতবাড়ি জবরদখলের চেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল বিকেলে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির শমশেরনগর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সৌদি ফেরত পলি বেগম।
লিখিত বক্তব্যে পলি বেগম জানান, তার স্বামী মছব্বির মিয়াসহ পরিবারের পাঁচ ভাই ও তাদের সদস্যরা মৌরসী সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস ও চাষাবাদ করে আসছেন। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য তিনি প্রবাসে গিয়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশি বশির মিয়া, আমজাদ মিয়া, আহমদ মিয়া, আহাদ মিয়া, রাজু মিয়া, কাঞ্চন বিবি, পপি বেগমসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাদের সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে হামলা, ভাঙচুর ও নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এতে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
পলি বেগম জানান, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর বিকেলে অভিযুক্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং তার ভাসুর মোস্তফা মিয়াকে আহত করে। দুদিন পর ১৪ ডিসেম্বর আবারও হামলা চালিয়ে মোস্তফা মিয়ার স্ত্রী রায়না বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে আহম্মদ হোসেনের নেতৃত্বে একই চক্র পুনরায় হামলা চালিয়ে তার দেবর জহির আলীর স্ত্রী সীমা বেগমকে মারধর করে। ফলে তার চার মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়।
এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানা, পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও এখনও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
সর্বশেষ গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে এবং পাকা দেয়াল ভেঙে ঘরের টিন খুলে নিয়ে যায়। এসময় ঘরে থাকা নগদ ৮৫ হাজার টাকা ও প্রায় ২ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয় বলেও অভিযোগ করেন পলি বেগম।
এ ঘটনায় মামলা করা হলেও অভিযুক্তরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে জানান তিনি। এতে পরিবারটি চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পলি বেগমের স্বামী মছব্বির মিয়া, ভাসুর মোস্তফা মিয়া, সীমা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আহম্মদ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক আমির হোসেন বলেন, ‘অভিযোগটি থানায় গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
পতাকানিউজ/এমআরআর/আরবি

