সুনামগঞ্জের প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৩ আসন। এ আসনে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। তাদের মধ্যে তিনজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী, একজন ব্যারিস্টারসহ চারজন আইনজীবী ও দুইজন কৃষক রয়েছেন।
প্রাথীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, স্বজনদের টাকায় বেশিরভাগ প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী ব্যয় মেটাবেন। বিশেষ করে স্ত্রী ছেলে ভাই ও বোন প্রবাস থেকে নির্বাচনী ব্যয়ের টাকা পাঠাবেন। প্রবাসী অধ্যুষিত এ নির্বাচনী এলাকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোক যুক্তরাজ্য প্রবাসী। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে তারা লন্ডনী হিসেবে পরিচিত।
খেলাফত মজলিস নেতা যুক্তরাজ্য প্রবাসী শেখ মুশতাক আহমেদ নির্বাচনে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। তার মধ্যে নিজের প্রবাসে থাকা আয় মাত্র এক লাখ টাকা ব্যয় করবেন। বাদবাকি ২৪ লাখ টাকা দিবেন তার লন্ডনী স্ত্রী।
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাড. ইয়াসীন খান নির্বাচনী ব্যয় করবেন ২৫ লাখ টাকা। নিজের আইন পেশা থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় করবেন এবং যুক্তরাজ্য প্রবাসী ভাই আলীনুর দিবেন ১৩ লাখ টাকা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ আলী নির্বাচনে ব্যয় করবেন ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। নিজের আয় থেকে ৩০ হাজার টাকা আর বাকি ২ লাখ টাকা দিবেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী দুই ছেলে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমেদ ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় করবেন। দেড় লাখ টাকা দিবেন প্রবাসী দুই আত্মীয়।বাকি টাকা তিনি আয় থেকে ব্যয় করবেন।
আমার বাংলাদেশ এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম একজন ব্যবসায়ী। তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। নিজের আয় থেকে নির্বাচনে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহফুজুর রহমান খালেদ একজন আইনজীবী। আইন পেশার আয় থেকে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৪২৭ টাকা ব্যয় করবেন তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ একজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও ব্যবসায়ী। দেশে বিদেশে দুই জায়গায় তার ব্যবসা রয়েছে। ব্যবসার আয় থেকে তিনি নির্বাচনে ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় করবেন।
বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন হলফনামায় আইন পেশার আয় থেকে ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় করবেন বলে উল্লেখ করেছেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য শাহীনুর পাশা চৌধুরী নির্বাচনে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন বলে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছেলে ও ভাই বোন মিলে ১৭ লাখ টাকা দিবেন। বাকি ৮ লাখ টাকা নিজের আয় থেকে ব্যয় করবেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক ফোরাম নেতা আশীষ দে বলেন, নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী সব প্রার্থী প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল। অনেক সময় হলফনামায় দাখিলকৃত ব্যয় বিবরণী থেকে বেশি টাকা খরচ করেন। কালো টাকা বিতরনের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করেন এবং নিবাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এসময় বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে সজাগ থাকতে হবে।
পতাকানিউজ/এডি/আরবি

