দেহ মন সুস্থ্য রাখতে প্রাণের উচ্ছ্বাসে শমশেরনগর ট-ট্রেইল ম্যারাথনে ৪ শতাধিক নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগর চা বাগান এলাকায় ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের পরের দিন ভোর ৬ টায় শমশেরনগর চা বাগান ফুটবল মাঠে ২৫ কিলোমিটার ও ১০ কিলোমিটার মিটার দৌঁড়ের উদ্বোধন করেন কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আউয়াল।
সবুজ চা বাগানের আঁকাবাকা পথে প্রাণের উচ্ছ্বাসে ব্যতিক্রমী এ ক্রীড়া উদ্যোগে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন শত শত দৌঁড়বিদ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোর ৬টায় শমশেরনগর চা বাগান ফুটবল মাঠ থেকে ম্যারাথনের যাত্রা শুরু হয়। ভোরের হালকা কুয়াশার মাঝে দৌড়েবিদরা শমশেরনগর চা বাগান কারখানা, ময়ানেজার বাংলোর পাশ দিয়ে সবুজের মাঝের ইট সলিং পথ হয়ে পরে শমশেরনগর – আাতলাপুর চেকপোস্ট পাকা সড়ক ঘুরে আবার শমশেরনগর চা বাগান ফুটবল মাঠে দৌড় শেষ করে।
দৌঁড়ের সময় আঁকাবাকা সড়কের মনোরম প্রকৃতির বুক চিরে দৌঁড়বিদরা এগিয়ে যান নিজেদের লক্ষ্যে। আঁকাবাঁকা পথ, চা প্লান্টেশন এলাকার ঘন সবুজ এলাকা আর নির্মল বাতাস যেন প্রতিটি পদক্ষেপে যোগ করেছে নতুন অনুপ্রেরণা।
টিম শমশেরনগর (বিতি)-এর আয়োজনে ইভেন্ট ম্যানেজার আহমেদুর রহমান খোকন, দৌঁড় পরিচালক ফয়ছাল আল কয়েছ চৌধুরী ও ইভেন্ট সন্বয়ক আব্দুল বাছিতের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এ ম্যারাথনে অংশ নেন ৫০ জন নারীসহ মোট ৪১০ জন পেশাদার ও অপেশাদার দৌঁড়বিদরা।
এবারের আয়োজন ছিল ২টি ক্যাটাগরিতে—মূল ২৫ কিলোমিটার ম্যারাথনের পাশাপাশি ১০ কিলোমিটার দৌঁড় ছিল।
দৌঁড় শেষে শুক্রবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে মেডেল ও পুরস্কার বিতরণ করেন পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপি নেতা অলি আহমদ খান।
টি- ট্রেইল ২৫ কিলোমিটার পুরুষ ক্যাটাগরিতে দৌঁড়ে ১ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড সময়ে প্রথম হহন তোফায়েল আহমদ। ২৫ কিলোমিটার দৌঁড়ে নারীদের মধ্যে ৩ ঘন্টা ১২ মিনিট ৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হন মেহজাবীন মোস্তফা। ২৫ কিলোমিটার দৌঁড়ে ভ্যাটারান ক্যাটাগরীতে (বয়স ৫০ উর্ধ্ব) ২ ঘন্টা ৪৫ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড সময়ে প্রথম হন জাকির হোসেন।
টি- ট্রেইল ১০ কিলোমিটার দৌঁড়ে পুরুষদের মধ্যে ৪০ মিনিট ৫২ সেকেন্ডে প্রথম হন শুভ্র কর্মকার। নারীদের মধ্যে ১ ঘন্টা ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ডে প্রথম হন তাবাসুম ফেরদৌস। ভ্যটারান ক্যাটাগরীতে (বয়স ৫০ উর্ধ্ব) ১ ঘন্টা ১২ মিনিট ৪২ সেকেন্ড প্রথম হন শরফুজ্জামান।
আয়োজকদের মতে, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অতিরিক্ত ডিজিটাল নির্ভরতা থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও সচেতন জীবনযাপনে উৎসাহিত করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
-পতাকানিউজ/এমআরআর

