তিন দফা দাবি আদায়ে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। বুধবার, ৩ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন তারা। এতে বন্ধ রয়েছে চলমান বার্ষিক পরীক্ষা । একইসঙ্গে নিজ নিজ উপজেলা বা থানা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার (এটিইও) কার্যালয়ের সামনেও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষকেরা।
শিক্ষকরা তিন দফা দাবি আদায়ে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ এর ডাকে আজকের কর্মসূচি পালন করছেন।
তিন দফা দাবি হচ্ছে—১. সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা, ২. ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দূর করা, ৩. সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির ব্যবস্থা করা।
পরিষদের আহ্বায়ক মু. মাহবুবর রহমান জানান, শিক্ষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। দেশের সব বিদ্যালয় বন্ধ। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলমান থাকবে।
এর আগে মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর বিকেলে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এর ঘোষণা দেয়া হয়। এদিন ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের’ অন্যতম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে তিন লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত, যাদের বেশিরভাগই সহকারী শিক্ষক।
প্রধান শিক্ষকদের বেতন এখন দশম গ্রেডে হলেও সহকারী শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১৩তম গ্রেড। এ বৈষম্যের প্রতিবাদে এবং গ্রেড উন্নীত করার দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। গত ৮-১১ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে পুলিশের হামলায় দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হন। পরে শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে তারা কর্মস্থলে ফিরে গেলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ায় ২৭ নভেম্বর থেকে ফের কর্মবিরতি শুরু করেন। এরপর ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করেন।
তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দশম গ্রেড দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়ে আপাতত ১১তম গ্রেডের সুপারিশ করেছে। শিক্ষকরাও আপাতত সেই প্রতিশ্রুতি (১১তম গ্রেড দেওয়ার) বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন।
পতাকানিউজ/আরবি

