প্রেমের টানে হাজার মাইল দূরের দেশ ফিলিপাইন ও সুদূর শ্রীলঙ্কা থেকে ফেনীতে প্রেমিকের কাছে ছুটে এসেছেন দুই তরুণী। বুধবার (৪ মার্চ) রাতে শহরের কালি মন্দিরে সনাতন ধর্মের রীতি অনুযায়ী ফিলিপাইনী তরুনীর বিয়ে সম্পন্ন হয়। ফিলিপাইনি ওই তরুণীর নাম জেনি (৩২)। তার প্রেমিক নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার দরাপনগর গ্রামের হীরলাল পালের ছেলে সুজন পাল (৩৪)।
অপরদিকে ফেনীর দাগনভূঞায় ভালোবাসার টানে সুদূর শ্রীলঙ্কা থেকে ছুটে এসে ঘর বেঁধেছেন ইশারা মাধবী জয়শখারা নামের এক তরুণী। ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলাদেশে আসেন এবং পরে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে নাম পরিবর্তন করে জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত (২৭) হিসেবে পরিচিত হন। স্থানীয় যুবক এজাজ আহমেদ শিহাবের সঙ্গে পারিবারিকভাবে ৫ লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কাজের সূত্র ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে ছিলেন সুজন পাল। সেখানেই ২০১৮ সালে ফিলিপাইনি তরুণী জেনির সঙ্গে পরিচয় হয় তার। দুজনের পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। আর পরবর্তী সেটি গড়ায় ভালোবাসায়। প্রেমের সম্পর্কের পর সম্প্রতি দুজনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। সেজন্য বাংলাদেশে আসেন প্রেমিকা জেনি। বুধবার রাতে ফেনী শহরে সনাতন ধর্মের রীতি অনুযায়ী সাত পাকে বাঁধা পডলেন এই প্রেমিক যুগল।
অনুভূতি জানিয়ে জেনি বলেন, দীর্ঘ সময় সম্পর্কের পর আমি এখানে বিয়ের জন্য এসেছি। বাংলাদেশে এসে আমার ভালো অনুভূত হয়েছে। এখানে সবকিছু ভালো ও সুখকর লাগছে।
সুজন পাল বলেন, প্রায় ৮ বছরের সম্পর্কের পূর্ণতা পেয়েছে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা সবসময় একসঙ্গে থাকতে চেয়েছি। সকলে আমাদের জন্য আশীর্বাদ করবেন।
ফেনী কালি মন্দিরের পুরোহিত শ্রী নিমাই চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, তারা একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ের জন্য দেশে এসেছে। হিন্দু ধর্মের রীতি অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। সুজনের পরিবারের সদস্যরা এখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের জন্য শুভ কামনা রইলো।
অন্যদিকে ফেনীর দাগনভূঞায় ভালোবাসার টানে সুদূর শ্রীলঙ্কা থেকে ছুটে এসে ঘর বেঁধেছেন ইশারা মাধবী জয়শখারা নামের এক তরুণী। ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলাদেশে আসেন এবং পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নাম পরিবর্তন করে জান্নাতুল ফেরদৌস জান্নাত (২৭) হিসেবে পরিচিত হন। স্থানীয় যুবক এজাজ আহমেদ শিহাবের সঙ্গে পারিবারিকভাবে ৫ লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানের একটি টেক্সটাইল কোম্পানিতে কাজ করার সময় শিহাব ও ইশারার পরিচয় হয়। দীর্ঘ তিন বছরের প্রেম শেষে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং বাংলাদেশে এসে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি মেনে পরিণয়ে আবদ্ধ হন। দাগনভূঞা পৌর এলাকার কাজী আবদুল কাদের প্রচলিত আইন ও শরিয়াহ অনুযায়ী এই বিয়ের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন।
বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে এজাজ আহমেদ শিহাব বলেন, ওমানে থাকা অবস্থায় একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমরা একে অপরকে বুঝতে পেরেছি। সেখানে বিয়ে সম্ভব নয় বিধায় আমরা দেশে এসে বিয়ে করেছি। সে ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম হয়েছে। তার পরিবার ও আমার পরিবার বিষয়টি অবগত রয়েছে। পরিবারকে রাজি করাতে কিছুটা সময় লাগলেও এখন সবাই খুশি। সে আমাকে পেয়ে অনেক খুশি হয়েছে। সবার দোয়া চাই।
নতুন নামে পরিচিত হওয়া জান্নাত জানান, বাংলাদেশের মানুষের আন্তরিকতায় তিনি মুগ্ধ এবং শিহাবের পরিবার তাকে নিজের মেয়ের মতো গ্রহণ করেছে। নতুন জীবন শুরু করেছি, সবার ভালোবাসা চাই।
রামনগর ইউনিয়নের আজিজ ফাজিলপুর গ্রামের বাসিন্দা ও শিহাবের পরিবার এই বিয়েকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাষার এই দুই মানুষের মিলনকে স্থানীয়রা ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসার মাধ্যমে এই দম্পতি সুখী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন দাগনভূঞা পৌর এলাকার কাজী আবদুল কাদের। তিনি জানান, সব প্রক্রিয়া শরিয়াহ ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। কনের সম্মতি, সাক্ষী এবং কাবিননামা- সব নিয়ম মেনেই হয়েছে। বিদেশি নাগরিক হওয়ায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা হয়েছে।
রামনগর ইউনিয়নের প্রবীন শিক্ষক আবুল হোসেন বলেন, ভালোবাসা দেশ-সীমানা মানে না। সবচেয়ে বড় কথা, তারা সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছে। এটি একটি ইতিবাচক উদাহরণ। পারস্পরিক সম্মান ও মূল্যবোধ অটুট থাকলেই সংসার সুখের হবে।
-পতাকানিউজ/এএএম

