ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভার ফকিরহাট বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার, ৫ অক্টোবর গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বাজারে। এতে দুইটি গোডাউনসহ আটটি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানায়, আগুন প্রথমে বাজারের মুদি দোকানি মুছার দোকান থেকে শুরু হয়। পরে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের দোকানগুলোতে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রুপ নেয়, যার কারণে ব্যবসায়ীরা নিজেদের দোকান থেকে কোনো মালামালই সরাতে পারেননি। স্থানীয়রা বালতি করে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এক ঘণ্টা প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা হলেন, মুছা সওদাগরের মুদি দোকান, আজিজুল হকের মুদি দোকান, মাওলানা আবু সাঈদের ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, রাজিব পালের মোবাইল দোকান। এছাড়া এহসানের ষ্টেশনারী দোকান, সুজনের মিষ্টির দোকান ও গোডাউন সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ফকিরহাট বাজার ব্যববায়ী সমিতির সভাপতি আবু আহমেদ বলেন, ‘রাত দেড়টা নাগাদ হঠাৎ করে লোকজন আগুন আগুন বলে চিৎকার করতে থাকে। দৌঁড়ে আসার পর দেখি সব শেষ। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যসায়ীদের কিছুই বাঁচানো যায়নি।’
ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন কর্মকর্তা (এসও) কামাল উদ্দিন জানান, ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এসময় অন্তত ২০ লক্ষ টাকার মালামাল উদ্ধার করি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত।’
এদিকে খবর পেয়ে সোমবার,৬ অক্টোবর সকালে অগ্নিদুর্গত বাজার পরিদর্শন করেন ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম। তারা ক্ষতিগ্রস্থ দোকানীদের খোঁজ-খবর নেন এবং সহযোগীতার আশ্বাস দেন।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নাজিরহাট পৌরসভার প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের কাজ করেছি। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের ইতোমধ্যে পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ থেকে খাদ্যশষ্য, ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছি।’
পতাকানিউজ/ওএআর/এএইচ

