ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানকে ভারতে পালাতে সহায়তাকারী দুই আদিবাসীকে আবারও পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। রবিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে নেওয়া দুই আদিবাসী হলেন সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম।
বিকেলে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ তাদের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের অতিরিক্ত পিপি মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ময়মনসিংহের ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ তাদের আটক করে।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স–কালভার্ট রোডে বিজয়নগর এলাকায় রিকশায় করে যাওয়ার সময় শরিফ ওসমান বিন হাদিকে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যান। গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন হাদি। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়ার পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে আসামি করে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের যুগ্ম সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। হাদির মৃত্যুর পর তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।
ডিবির ফের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, পল্টন মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সিবিউন দিউ (৩২) ও সঞ্জয় চিসিম (২৩) হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগীদের অবৈধভাবে সীমান্ত পার হতে সহায়তা করেছেন—এমন প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, হত্যার পর ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যান। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার তথ্য, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে ধারণা মিলেছে।
ডিবি জানায়, সীমান্ত পারাপারকারী চক্রের হোতা হিসেবে ‘ফিলিপ’ নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তার অবস্থান শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের অর্থদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে পুনরায় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। পাশাপাশি হত্যার আগে ‘কিলিং মিশন’ পরিচালনায় কারা যোগাযোগ ও সহায়তা দিয়েছে, তা উদ্ঘাটনেও ফের রিমান্ড জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, এ মামলায় ফয়সালের মা ও বাবা গত বুধবার আদালতে জবানবন্দি দিয়ে তাকে পালাতে সহযোগিতার কথা স্বীকার করেছেন। ফয়সালের সহযোগী কবির ওরফে দাঁতভাঙা কবির বর্তমানে সাত দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। এ ছাড়া ফয়সালের স্ত্রী, বোন ও বান্ধবী দ্বিতীয় দফায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে আছেন।
পতাকানিউজ/এআই

