খুলনার কয়রা উপজেলায় ফসল রক্ষায় অবৈধ বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একের পর এক ঝরছে প্রাণ। রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ধানখেত থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মারা যাওয়া লতিকা বৈদ্য (৪০) মহেশ্বরীপুর গ্রামের বরুণ বৈদ্যের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় লতিকা বৈদ্য গরু খুঁজতে গিয়ে আর বাড়িতে ফিরেননি। স্বজন ও এলাকাবাসী রাতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। আজ, রবিবার ভোরে স্বজনেরা নিরুদ রায়ের ধানখেতে গিয়ে দেখতে পান লতিকা বৈদ্যের মরদেহ পড়ে আছে। এ ঘটনায় স্বজনেরা নিরুদ রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
একই উপজেলায় অবৈধ বৈদ্যুতিক ফাঁদে মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। গত বছর দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চরামুখা গ্রামে ধান খেতের পাশে সংযোগ দেয়া বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজন—পিতা, মাতা ও পুত্র—মারা যান।
এছাড়া ২৩ অক্টোবর ৩ নম্বর কয়রা গ্রামে ধানখেতে অবৈধ বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আব্দুর রহমান (৩৬) নামের এক যুবক মারা যান। গত বছর উপজেলায় এমন ঘটনায় মোট ছয়জনের প্রাণহানি ঘটে।
কয়রা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরো কয়রা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ধানখেতে বৈদ্যুতিক সংযোগ দেয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। ফসল রক্ষায় মানুষের প্রাণ নেয়ার কোনো অধিকার কারও নেই। কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বিকল্প নিরাপদ পদ্ধতিতে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া জরুরি ‘
পতাকানিউজ/টিআই/আরবি

