আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বাকি ৬৩টি আসন আপাতত ফাঁকা রেখেছে দলটি।
দলের নীতিনির্ধারকদের মতে, এসব আসন মূলত জোটভুক্ত বা বিএনপির আন্দোলনসঙ্গী দলগুলোর জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির পাশে ছিল, এমনকি ৫ আগস্টের পরও যেসব দল প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছে, তাদের শীর্ষ নেতাদের জন্যই এই আসনগুলো ফাঁকা রাখা হয়েছে।
জোটের নেতাদের অগ্রাধিকার
সোমবার, ৩ নভেম্বর বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে যারা যুগপৎ আন্দোলন করেছেন, তাদের প্রার্থী দেয়ার সুযোগ রাখতেই কিছু আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে। তারা যেসব আসনে প্রার্থী দিতে চান, সেটি জানালে আমরা সমন্বয় করব।
দলীয় সূত্র জানায়, এলডিপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, গণঅধিকার পরিষদ, গণফোরাম, ১২ দলীয় জোট, সমমনা জোট ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপিসহ বিএনপির ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন দলের নেতাদের জন্য এসব আসন রাখা হয়েছে।
ফাঁকা আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম
চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপির সমর্থন পেতে পারেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক। বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সেখানে বিএনপি প্রার্থী দেয়নি।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ এবং দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ঝিনাইদহ-২ আসনে প্রার্থী হতে পারেন। দুই জায়গাতেই বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করেনি।
লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএনপির সমর্থন পেতে পারেন বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের মুখপাত্র সাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, আমাকে আগেই মৌখিকভাবে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। আমি আশা করি, বিএনপির সমর্থন পাব।
এছাড়া লক্ষ্মীপুর-৪ এ জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রবের স্ত্রী তানিয়া রব, ঢাকা-১৭ এ বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ এবং ঢাকা-১৩ এ জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ববি হাজ্জাজ প্রার্থী হতে পারেন। এসব আসনেও বিএনপি কাউকে মনোনয়ন দেয়নি।
ঝালকাঠি-১ আসনে সমর্থন পেতে পারেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। তিনি বলেন, আমরা সব সময় বিএনপির পাশে থেকেছি, এবারও জোটের অংশ হিসেবেই নির্বাচনে যেতে চাই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ইতোমধ্যেই নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছেন, সেই আসনটিও ফাঁকা রেখেছে বিএনপি।
আরও যাচাই-বাছাই চলছে
দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, কিছু আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকায় এখনই নাম ঘোষণা করা হয়নি। এছাড়া কিছু আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলে স্থানীয় পর্যায়ে বিভাজন বা বিরোধের আশঙ্কা থাকায় সেগুলোও আপাতত ফাঁকা রাখা হয়েছে।
জোটগত সমন্বয় শেষে বিএনপি বাকি আসনগুলোয় নিজেদের ত্যাগী ও যোগ্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে।
পতাকানিউজ/এআই

