বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হারের পর মাঠে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। ওই ঘটনার পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে শৃঙ্খলাভঙ্গের একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে আর্জেন্টিনা দল ও কয়েকজন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
গত সপ্তাহে নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ১–০ গোলে হারের পর শেষ বাঁশি বাজতেই স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সদস্য সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনাটি তদন্তে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতাবিষয়ক একজন প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয় ফিফা। সপ্তাহব্যাপী তদন্ত শেষে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ফিফা শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপর ফিফা শৃঙ্খলা কমিটি যথাসময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।’
পারেদেসের বিরুদ্ধে তিন অভিযোগ
ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর স্পেনের বদলি খেলোয়াড়েরা উদ্যাপনের জন্য মাঠে প্রবেশ করলে তাদের মিডফিল্ডার গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গাভির মুখে আঘাত করেন এবং স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়াকেও আঘাত করেন।
প্রসিকিউটরের সুপারিশের ভিত্তিতে পারেদেসের বিরুদ্ধে তিনটি, নাহুয়েল মলিনার বিরুদ্ধে দুটি এবং আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ তদন্ত করবে ফিফা। তাঁদের বিরুদ্ধে ফিফার শৃঙ্খলাবিধির ১৪ নম্বর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া খেলোয়াড়সুলভ আচরণবিরোধী অভিযোগে মলিনার পাশাপাশি আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা এবং স্পেনের মিডফিল্ডার গাভির বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।
ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, খেলোয়াড়সুলভ আচরণবিরোধী অপরাধে খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের অন্তত এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে হতে পারে। আর সংঘর্ষের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ন্যূনতম তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ
ফাইনালের ঘটনার বাইরে টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ম্যাচে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধেও শৃঙ্খলাবিষয়ক কার্যক্রম শুরু করেছে ফিফা।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে খেলাধুলার চেতনাবিরোধী কার্যক্রম (১৩ নম্বর ধারা), দলের অসদাচরণ (১৪ নম্বর ধারা), বৈষম্য ও বর্ণবাদী আচরণ (১৫ নম্বর ধারা) এবং ম্যাচে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার নিয়ম ভঙ্গ (১৭ নম্বর ধারা)।

এ ছাড়া বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, নির্ধারিত সময়ের পরে ম্যাচ শুরু করা, দল ও দর্শকদের অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন এবং দর্শকদের মাঠে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে।
ফকল্যান্ড ব্যানার নিয়েও প্রশ্ন
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্ব দাবি করে একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ব্যানারটিতে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল, ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার।’
ফিফা জানিয়েছে, খেলাধুলার কোনো আসরকে খেলাধুলাবহির্ভূত প্রদর্শনী বা প্রচারের জন্য ব্যবহার করলে তা শৃঙ্খলাবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই ধরনের ঘটনায় ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের আগে একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টিনাকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা।
-পতাকানিউজ

