বসন্তের এ সময়ে প্রকৃতি লালে লাল হয় পলাশ ও শিমুলের রঙে। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, গাছের শাখায় যেন আগুন জ্বলছে। বসন্তের হাওয়া লাগতেই মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ফটকে প্রবেশ করতেই অডিটরেয়িামের পাশে একটি গাছে থোকায় থোকায় ফুটেছে পলাশ ফুল। আগুন রাঙা পলাশের রূপ বলে দেয় , এখন বসন্তের ভরা মৌসুম। গ্রীষ্মে সোনালু, বর্ষায় জারুল, শীতে কাঞ্চন আর বসন্তে পলাশ—প্রতিটি ঋতু এখানে আলাদা রূপে ধরা দেয়।
সাধারণত হলুদ, লাল ও লালচে কমলা—এ তিন রঙে দেখা যায় পলাশ। তবে লালচে কমলার আগুন রাঙা রূপই বেশি নজর কাড়ে। ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে গাছ ভরে ওঠে ফুলে। ফুল ফোটার সময় গাছ প্রায় পাতাশূন্য থাকে। আর এমন দৃশ্য চোখে পড়বে কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরের পলাশ ফুলে। আশপাশ এলাকার মানুষজন, পথচারী এমনকি আগত পর্যটকদেরও আকৃষ্ট করছে এ পলাশ ফুল।
বসন্ত এলেই পাতার সবুজ ছাপিয়ে ফুটে ওঠে আগুনরাঙা ফুল। তা দেখে হঠাৎ থমকে যাচ্ছেন পথিক, কেউ কেউ মুঠোফোনে বন্দি করছেন মুহূর্তটি, কেউবা সকাল বেলায় ঝরে পড়া পলাশ ফুলের পাপড়ি কুড়িয়ে নিচ্ছেন। রোদের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পলাশের রং আরও গাঢ় হয়ে ওঠে। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজের ভেতর জ্বলছে আগুনের লাল শিখা।
কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরের গাছে ফোটা পলাশ ফুল শহরের অন্য সড়কগুলোর চেয়ে এ সড়কের আলাদা বিশেষত্ব এনে দিয়েছে। এখানে সব সময়ই কোনো না কোনো ফুল ফুটে থাকে। মনে হয় গাছের নিচে লাল ফুল বিছিয়ে আছে, যা দেখলে মন ভালো হয়ে যায়।
সড়কের পাশের ভবনের বাসিন্দা মুন্নী আক্তার বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর আগে উপজেলা পরিষদে পলাশ গাছ লাগানো হয়। দুবছর ধরে গাছগুলো ফুল দিচ্ছে। গরমের সময় গাছের নিচে বসে থাকা যায়। এখানে বসলে অন্যরকম লাগে। পলাশ গাছে এমনভাবে ফুল ফুটেছে যে দাঁড়ালেই বোঝা যায়, বসন্ত এসেছে !’
শশশেরনগর হাসপাতাল কমিটির সদস্য সচিব সাবেক বোটানির শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘একসময় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাড়ির আঙিনা—সবখানেই পলাশ ও শিমুল গাছ দেখা যেত। কিন্তু নগরায়ণ ও আধুনিকতার চাপে গাছ কেটে ফেলা, বীজ বপন না করা এবং পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের অভাবে এসব গাছের অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে।
তিনি বলেন, ‘একটি এলাকার প্রকৃত সৌন্দর্য ধরে রাখতে হলে নানা ধরনের গাছ লাগানো প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তন ও দূষণের প্রভাবে প্রতিটি ঋতুই তার নিজস্ব বৈচিত্র হারাচ্ছে। প্রকৃতির স্বরূপ ফিরিয়ে দিতে হলে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ জরুরি—ফলজ ও বনজ গাছের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধক গাছও লাগাতে হবে।’
পলাশ মাঝারি আকারের একটি পর্ণমোচী বৃক্ষ। বৈজ্ঞানিক নাম বিউটিয়া মোনোসপারমা (Butea monosperma)। গাছটি সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। ফুলের দৈর্ঘ্য সাধারণত দুই থেকে চার সেন্টিমিটার। বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই পলাশ দেখা যায়। ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াতেও এর বিস্তৃতি রয়েছে।
পতাকানিউজ/এমআরআর/আরবি

