‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার সময় একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ কখনো বিরোধী দলে গেলেও হরতাল কর্মসূচি দেবে না। ওই সময়ে বিরোধীদল থাকা বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীকে দেশে আগুন-সন্ত্রাস ও লুটপাট চালাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছিলেন এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এখন থেকে মাত্র দুই বছর আগে ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় হরতাল ও অবরোধের নামে বিএনপি-জামায়াতের আগুন-সন্ত্রাস ও লুটপাটের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ওই সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি দাবি করেছিলেন, বিএনপি-জামায়াত গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তারা হরতাল ও অবরোধের নামে আগুন-সন্ত্রাস ও লুটপাট করছে। শুধু তাই নয়, পরিকল্পিতভাবে পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করে তোলা হচ্ছে। দেশব্যাপী নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা আগুন-সন্ত্রাস করবে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী নানাসময়ে দেয়া বক্তব্যে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে গেলেও হরতাল না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতকে অগ্নিসন্ত্রাসের জন্য দায়ী করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। অবশ্য, পরর্বতীতে দেশের মানুষ গায়েবি মামলাসহ নানা ধরনের মামলার চিত্র দেখেছে এবং গায়েবি মামলায় বিএনপি-জামায়াতের হাজারো নেতা-কর্মীর কারাগারে যাওয়ার বিষয়টি দেশের মানুষ অবগত হয়েছে।

