চলতি সপ্তাহের শেষেই যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেবে বলে এআকটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে শীর্ষ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। আর এখবর সত্যি হলে সেটা হবে ফিলিস্তিনিদের জন্য বড় সুসংবাদ। কেননা, বিশ্বমোড়লদের অন্যতম দেশ যুক্তরাজ্য।
ঘোষণাটি এমন সময় এলো যখন দেশটি সফর করছেন আরেক বিশ্বমোড়ল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
জানা গেছে, ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফল শেষে দেশটি ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফর শেষ হওয়ার পর যুক্তরাজ্য এ ঘোষণা দেবে। এদিকে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাতের পটভূমিতে, লন্ডনে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রদর্শন করে সে দেশের পতাকা ওড়াচ্ছেন অনেকেই।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগেই সতর্ক করেছিলেন—যদি ইসরায়েল গাজায় তাদের আগ্রাসন না থামায় এবং যুদ্ধবিরতিতে না পৌঁছায়, যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে।
উল্লেখ্য, স্টারমারের সতর্কবার্তার পরও ইসরায়েল গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করেনি। বরং বহুমাত্রিক অভিযান চালিয়ে গাজা খালি করছে। আর সেটা তারা করে চলেছে বিশ্বমোড়ল যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদে।
এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্রদেশ যুক্তরাজ্য যদি ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় তাহলে ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া কী হয়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ট্রাম্প আজ (বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর) তার দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষ করবেন। এরপরই যুক্তরাজ্য এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ঘোষণা দেবে।
তবে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো এবিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াও ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সম্মেলনে এ বিষয়ে আরো বড় পদক্ষেপ আশা করা যাচ্ছে।
অপরদিকে, লন্ডনের মেয়র সাদিক খান গাজার পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘গাজায় যা ঘটছে তা আমাদের চোখের সামনেই গণহত্যা।’
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও গত বুধবার গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনকে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এই হত্যাযজ্ঞে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ থেকে সরে আসার আহ্বানও জানান।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা আশা প্রকাশ করছেন, যুক্তরাজ্যের এমন ঘোষণার পর ভবিষ্যতে আরো দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে।
-দ্য গার্ডিয়ান
পতাকানিউজ/আইবিএম

