ফেনীতে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে জনপদ। ঝড়ে অসংখ্য গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসতঘর।
রবিবার, ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া এ ঝড়ে পুরো জেলা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ না থাকায় ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
এদিকে সোমবার, ২৭ এপ্রিল দুপুর ১টার পরও উপজেলাগুলোর অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়নি। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছে না সংশ্লিষ্টরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালবৈশাখী ঝড়ে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরশুরাম পৌর এলাকার বাসপদুয়া, গুথুমা এবং মির্জানগর ইউনিয়নের সত্যনগর, নিজকালিকাপুর, চিথলিয়া ও বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে তীব্র ঝড়ে গাছ উপড়ে বসতঘরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
গুথুমা গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহের জানান, তাদের গ্রামে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ট্রান্সফরমার মাটিতে পড়ে গেছে।
বাসপদুয়া গ্রামের রাশেদুল ইসলাম ডলার ও নিজকালিকাপুর গ্রামের রমজান আলী বলেন, ‘গাছ পড়ে ঘরবাড়ি ও পল্লী বিদ্যুতের লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকেই পুরো উপজেলা অন্ধকারে নিমজ্জিত।’

এ বিষয়ে পরশুরাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মু. সুহেল আখতার বলেন, ‘ঝড়ে ৩৩ কেভি লাইনসহ সব ১১ কেভি লাইনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। একাধিক স্থানে খুঁটি ভেঙে যাওয়া এবং লাইনের ওপর গাছ পড়ে থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কর্মীরা লাইন সচল করতে কাজ করছেন।’
এদিকে ফুলগাজীতেও কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঝড়ের কারণে মুন্সীরহাট-নোয়াপুর সড়কের অন্তত পাঁচটি স্থানে বড় গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গাছ অপসারণে কাজ শুরু করেন।
ফুলগাজী ফায়ার সার্ভিসের ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. তারেকুল ইসলাম বলেন, ‘সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে আমাদের টিম নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।’
ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ফুলগাজী জোনের ডিজিএম মো. হাবিবুর রহমান জানান, উপজেলার ১০টি ফিডারের সবগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাইনের ওপর গাছ পড়ায় পুরো উপজেলা বিদ্যুৎহীন। মাঠকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে সংস্কার কাজ চালালেও সংযোগ স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা এখনও নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
এছাড়া জেলার সদর উপজেলা, দাগনভুঞা ও সোনাগাজীর বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। হঠাৎ এ দুর্যোগে ফেনীর হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার নূর হোসাইন বলেন, ‘জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন রয়েছে। রাত থেকে বিদ্যুৎ কর্মীরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিতের কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করছি দ্রুততম সময়ের সমাধান হবে।’
জানতে চাইলে ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ‘কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার বিভিন্ন জায়গায় ক্ষয়ক্ষতির খবর আসছে। ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পতাকানিউজ/এএএম/আরবি

