দ্বিতীয়বারের মতো ফেনীতে জনসভায় বক্তৃতা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার, ২৬ জানুয়ারি রাতে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের জনসভা ছড়িয়ে যায় পুরো শহরে। হাজার হাজার জনতার উদ্দেশ্যে তিনি সমস্যা, সম্ভাবনা, আশা- প্রত্যাশার কথা যেমন শুনিয়েছেন, তেমনি আয়োজন নিয়ে বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন। চরম বিশৃঙ্খলা নিয়ে বিরক্ত হলেও সাবলিল ভাষা আর স্বাভাবিক মেজাজে পরিস্থিতি সামলে নিলেও বক্তৃতা সংক্ষেপ করেছেন।
জনসভা মঞ্চের মতোই বাইরের পরিস্থিতি নিয়ে বার বার বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বক্তৃতার মাঝে বিরক্ত হয়ে চেয়ারে বসে পড়া। এক সময়ে তিনি সবাইকে শান্ত হয়ে বসে পড়ার অনুরোধ করেন, তা না হলে বক্তব্য শেষ করার ঘোষণা দেন।
এসময় তারেক রহমান বলেন, ‘এখানে কিন্তু আমার নানার বাড়ি, কথা না শুনলে বক্তব্য বন্ধ করে দেব। এ কথা বলেই বক্তৃতা বন্ধ করে দিয়ে ক্ষণিকের জন্য চেয়ারে বসে পড়েন। পরে মাইক হাতে নিয়ে কথা বললেও চেহারায় রাগ আর অভিমানের চাপ ফুটে উঠে ঠিকই।
এদিকে একই অবস্থা মঞ্চের পাশে নির্দিষ্ট স্থানে অপেক্ষমান ১৬ বছর গুম ও খুনের শিকার এবং ২০২৪ এর এক দফা আন্দোলনে নিহতদের পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়। তিনি বক্তৃতা শেষ করে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে সেখানে হুমড়ি খেয়ে পড়ে মানুষ। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নিরাপত্তা বেস্টনি ভেঙে সাধারণ মানুষ সেখানে ঢুকে পড়ে। পরে বিজিবি, পুলিশ ও সিএসএফ সদস্যরা তারেক রহমানকে নিরাপদে গাড়িতে তুলে দেন।
এর আগে তারেক রহমান যখন বক্তৃতা করছিলেন তখন একদল লোক পুরো নিরাপত্তা বেস্টনি উপড়ে ফেলে মঞ্চের দিকে ছুটতে থাকেন। একপর্যায়ে কয়েকজন মঞ্চেও উঠে পড়েন। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল একজনকে গলা ধরে মঞ্চ থেকে ফেলে দেন। এছাড়া মঞ্চে থাকা অন্য নেতারাও চাপ সামলাতে ব্যস্ত ছিলেন।
এদিকে জনসভা মঞ্চ ও নিরাপত্তা বেস্টনি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের মতো তিন জেলার নেতাকর্মীরাও ক্ষুব্ধ। হুড়োহুড়ি আর সামনে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় পুরো শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে সভার শুরুতেই। তারেক রহমান মঞ্চে উঠার পর সামনে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হয়। এছাড়া বক্তৃতার ক্ষেত্রেও মানা হয়নি প্রটোকল। দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ব্যরিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জয়নাল আবদিন, যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার পরে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু। এ নিয়ে নেতাদের পাশাপাশি তাদের কর্মী সমর্থকরা ক্ষোভ জানান। এসব কারণে অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ফেনীর সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। সাউন্ড সিস্টেম নিয়েও অভিযোগের অন্ত নেই। অনেকের মোবাইল, মানিব্যাগ চুরি হয়ে গেছে সভাস্থল থেকে।
এদিকে মঞ্চসহ পুরো সভার ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের চুক্তি দেয়া হয়েছিলো জেলা আওয়ামী লীগের পলাতক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সোহেলকে।
অপরদিকে সমাবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ১৫ সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হলেও বিএনপির কোন নেতা খোঁজ নেননি। এছাড়া ধস্তাধস্তি আর চেয়ার ছোড়াছুড়ির কারণে শুনা হয়নি জুলাই যোদ্ধা ও শহীদদের পরিবারের বার্তা। তাদের সঙ্গে কয়েক সেকেন্ড কথা বলে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন তারেক রহমান।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন ফেনী টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি আতিয়ার সজল। তিনি বলেন, ‘পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
এ বিষয়ে জানতে রফিকুল আলম মজনুর মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
অভিযোগ বিষয়ে ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ‘অতি আবেগের কারণে কর্মীরা মঞ্চের দিকে ছুটে আসেন নেতাকে কাছ থেকে দেখার জন্য। আর বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রটোকল না মানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি বড় শোডাউনের কারণে ভঙ্গ হযে গেছে।’
ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, ‘বড় জনসভা হওয়ায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণহীন ছিল নেতাকর্মীরা। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা দুঃখজনক।’
পতাকানিউজ/এএএম/আরবি

