হিন্দু সম্প্রদায়ের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে ফেনীতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমালয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। ছোট-বড় প্রায় সব মন্ডপেই চলছে প্যান্ডেল তৈরির সাজ সজ্জাসহ মেরামতের কাজ। ফেনীতে এবার মোট ১৫০টি মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি চলছে। পূজায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। জেলা প্রশাসনেরও প্রস্তুতি রয়েছে।
পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানায়, গত বছর ফেনীতে ১৪৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এবার তিনটি বেড়ে ১৫০-এ উন্নীত হয়েছে। ফেনী পৌরসভার সুলতানপুরে ও ফেনী সদর উপজেলার কালীদহ ইউনিয়নের পশ্চিম ছিলোনীয়া, চেওরিয়া ও ছনুয়া বাইল্লা বাড়িতে নতুন পূজার আয়োজন করা হয়েছে। তবে ফেনী সদর উপজেলার কাজীরবাগ শীলবাড়িতে এবং দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের লতিফপুরের একটি মন্দিরে এবার পূজা হচ্ছে না। অপরদিকে ফুলগাজী উপজেলার দরবারপুরে নতুন একটি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। সবমিলিয়ে এবার জেলায় ৫টি নতুন মণ্ডপে বেড়েছে এবং কমেছে ২টি ।
এদিকে ফেনী সদর উপজেলায় এবার ৬৩টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন চলছে। একইভাবে সোনাগাজীতে ২৩টি, দাগনভূঞায় ১৮টি, ছাগলনাইয়ায় ৫টি, ফুলগাজীতে ৩৪টি ও পরশুরামে ৭টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন রয়েছে।
এ বিষয়ে ফেনী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাস্টার হিরালাল চক্রবর্তী বলেন, ‘পূজা উদযাপনে নিরাপত্তা শঙ্কা দেখছি না। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেড় নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও আমাদের এ উৎসবকে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে আন্তরিক।’
ফেনী জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শুকদেব নাথ তপন বলেন, ‘এটি আমাদের বড় ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে সুন্দরভাবে আয়োজন করতে রাস্ট্র থেকে শুরু করে সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আশাকরি সুষ্ঠুভাবে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারব।
ফেনীর পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষনের জন্য প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত থাকবে। পুলিশি টহল জোরদারের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় থাকবে।
ফেনী জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ফেনীতে দুর্গাপূজাকে সৌহাদ্যপূর্ণ পরিবেশে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ হিন্দু সম্প্রদায় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হচ্ছে। এছাড়াও মণ্ডপে যাতায়াতের সুবিধায় রাস্তাঘাট জরুরি মেরামত করা হচ্ছে। মণ্ডপের শৃঙ্খলা রক্ষায় ৬ থেকে ১০ জন পর্যন্ত আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। জেলার ভারত সীমান্তবর্তী মণ্ডপগুলোতে বিজিবির টহল থাকবে।
পতাকানিউজ/এএএম/আরবি

