জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে বলে উল্লেখ করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি নিশ্চিত করেছেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করেছে। দেশের সকল প্রবাসী ভোটার এবং কারাগারে থাকা ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা নভেম্বর মাস থেকে ভোটার রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন। প্রবাসী ভোটাররা অনলাইনের মাধ্যমে বা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে তারা নিজের ভোটাধিকার নির্বিঘ্নে প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে কারাগারে থাকা আসামিদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যাতে কারাগারে থাকা ভোটাররাও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হন। এই উদ্যোগ দেশের নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে এবং ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর বিকেলে পটুয়াখালী সার্কিট হাউসে তিনদিনের জেলা সফরের অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘কমিশন ইতোমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনসংক্রান্ত সকল প্রস্তুতি শুরু করেছে। এতে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, কেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব নির্ধারণ ও প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই মাঠ পর্যায়ের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’
নির্বাচন কমিশন এই উদ্যোগকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখছে। কমিশন আশা করছে, প্রবাসী ভোটার এবং কারাগারে থাকা ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং এতে দেশের নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। চূড়ান্ত নির্দেশিকা ও বিস্তারিত তথ্য অল্প সময়ের মধ্যে প্রকাশ করা হবে, যাতে ভোটাররা সময়মতো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি প্রান্তে শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা। জনগণ যাতে ভোটকেন্দ্রে সহজে পৌঁছাতে পারে এবং ভোটাধিকার নির্বিঘ্নে প্রয়োগ করতে পারে, সেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
এসময় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে নির্বাচন কমিশনার কুয়াকাটায় একটি কর্মশালায় যোগ দেয়ার উদ্দেশে রওনা হন।
নির্বাচন কমিশনার শনিবার, ১ নভেম্বর কুয়াকাটায় একটি কর্মশালায় অংশগ্রহণ করবেন, যেখানে নির্বাচনী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
পতাকানিউজ/ইএইচএস/এমওয়াই

