বাকশালের অবসান ঘটিয়ে জিয়াউর রহমান দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন—এ কথা উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘সামরিক শাসনের সমাধিক্ষেত্রে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন খালেদা জিয়া। তাঁর ভাষায়, এখন ফ্যাসিবাদের স্থানে গণতন্ত্রের নতুন সূচনা ঘটাবেন তারেক রহমান।’
আজ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বক্তব্য দেন তিনি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘যারা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল, তাদের ফের ক্ষমতায় ফিরতে লেগেছে বহু বছর। মুসলিম লীগ আর ফেরেনি, আর আওয়ামী লীগের অপেক্ষা ছিল ২১ বছরের। কিন্তু খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি মাত্র ৯ বছরেই সরকারে ফিরে আসে। বহুদলীয় গণতন্ত্রের ইতিহাস তাঁর হাত ধরেই লেখা হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ জিয়ার হাত ধরে যাত্রা শুরু করা বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম করেছে। পথে অনেকে দল ছেড়েছেন, কিন্তু কঠিন সময়ের হাল ধরেছিলেন খালেদা জিয়া। সামরিক স্বৈরশাসনের সমাধিক্ষেত্রে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন তিনি। এখন ফ্যাসিবাদের জায়গায় গণতন্ত্রের আলোকবর্তিকা জ্বালাবেন তারেক রহমান—আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।’
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সমালোচনা সত্ত্বেও জন্মদিন উদ্যাপনে নিজে কখনো উৎসাহ দেননি খালেদা জিয়া। আমন্ত্রণ বা আয়োজনও করতেন না। আমরা নিজেরাই অনুষ্ঠান করেছি। তাঁর সুস্বাস্থ্যের জন্য দোয়া চেয়েছেন তিনি। গয়েশ্বরের মতে, রক্তপাতের পরও গণতন্ত্র এখনো নাগালের বাইরে। নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে, তাই কারও ফাঁদে পড়ে গণতন্ত্র যাতে বিপর্যস্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ১৫ দিন পরপর দেখা হতো। সেখানে তাঁর মানবেতর জীবনযাপন প্রত্যক্ষ করেছেন। চেষ্টা করেও বাইরে থেকে সহযোগিতা করতে পারেননি, ব্যর্থ হয়েছেন। তবে তাঁর দৃঢ় মনোবল দেখেছেন। ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যহানি হচ্ছিল, এমনকি মনে হয়েছিল খাদ্যের সঙ্গে বিষ মেশানো হয়েছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, কারাগারে খালেদা জিয়ার ওপর যারা নির্যাতন ও নিপীড়ন চালিয়েছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। সর্বশেষ দেখা হওয়ার সময় কারাগার ছিল প্রায় ফাঁকা; একটি নির্জন স্থানে ইঁদুর ও পোকামাকড় ঘুরে বেড়াত তাঁর কক্ষে। আব্বাস আরও জানান, ২০০৮ সালে শুরুতে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নেবেন না বললেও পরে একটি দলের চাপ ও কর্মীদের অনুরোধে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যান।
দোয়া ও মিলাদ মাহফিল সঞ্চালনা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং মোনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দলের সদস্যসচিব আবুল হোসেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা আমানুল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, বিশেষ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পতাকানিউজ/এনটি

