অপেক্ষার প্রতিটি মুহূর্ত যেন দীর্ঘ হচ্ছিল -প্রতিদিন, প্রতিঘণ্টা, প্রতিটি ফোনকলেই ছিল ম্রিয়মান আশা। যদি জীবত থাকার খরবটুকু মিলে! কিন্তু সেই আশার শেষটা এলো আরও গভীর শোকে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় দেহাবশেষটি যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির, তা অবশেষে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
শুক্রবার ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ফ্লোরিডা পুলিশ সরাসরি বৃষ্টির ভাইকে ফোন করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পরিবারের জন্য এটি ছিল এক নির্মম মুহূর্ত- যেখানে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাস্তবতা এসে দাঁড়ায় এক অনিবার্য শূন্যতার সামনে।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি এবং জামিল লিমন-দুজনেই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে তারা পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু গত ১৬ এপ্রিল হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান তারা। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তাদের খোঁজে অসংখ্য পোস্ট, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিও শুরু করে সন্ধান।
এই সন্ধানের মধ্যেই ২৪ এপ্রিল হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানায়, হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেই খবরই ভেঙে দেয় আশার আলো। কিন্তু তখনো একটি প্রশ্ন রয়ে গিয়েছিল—বৃষ্টি কোথায়?
দিন পেরিয়ে যায়, আরেকটি অপেক্ষা জমে ওঠে। অবশেষে দ্বিতীয় দফায় উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষটি বৃষ্টির-এ তথ্য নিশ্চিত হওয়ায় নিখোঁজের রহস্যের শেষ হলেও শোকের গভীরতা আরও বাড়ল।
বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বৃষ্টির পরিবারের অনুরোধে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিয়ামির কনস্যুলেট যৌথভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
অন্যদিকে, জামিল লিমনের মরদেহ ২ মে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাঠানো হবে, যা দুবাই হয়ে ৪ মে ঢাকায় পৌঁছাবে।
এই ঘটনা শুধু দুটি মৃত্যুর খবর নয় -এটি এক অপূর্ণ স্বপ্নের গল্প। যারা গিয়েছিল নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে, তারা ফিরছে নীরবতায় মোড়া হয়ে। পরিবারগুলোর জন্য এটি শুধু প্রিয়জন হারানোর শোক নয়, এটি জীবনের এক অপ্রস্তুত থেমে যাওয়া অধ্যায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি অ্যাকশন নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটির তদন্ত এখনো চলছে। ঠিক কী ঘটেছিল, কেন এমন পরিণতি-এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট-এই ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মনে গভীর দাগ কেটেছে। স্বপ্নভরা যাত্রার এমন করুণ সমাপ্তি যেন সবার হৃদয়ে একই প্রশ্ন রেখে যায়-কেন এমন মৃত্যু? ঠিক কি ঘটেছিল তাদের সঙ্গে? কেন ঘটেছিল? খুনির বিচার পাবে তো পরিবার?
তথ্য সূত্র : এবিসি অ্যাকশন নিউজ
-পতাকানিউজ

