বগুড়ার শাজাহানপুরের খলিশাকান্দি গ্রামে মা ও দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের মা রাবেয়া সুলতানা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর সকালে শাজাহানপুর থানায় হত্যা মামলাটি করে তিনি।
মামলায় নিহত সাদিয়ার স্বামী সেনাসদস্য শাহাদাত হোসেন কাজলকে (২৭) প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ২–৩ জনকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর পুলিশ আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হেফাজতে থাকা স্বামী সেনাসদস্য শাহাদাত হোসেন কাজলকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
মামলায় নিহত সাদিয়ার মা রাবেয়া সুলতানা অভিযোগ করেন, গত তিন বছর ধরে মেয়ের ওপর চরম নির্যাতন চালাচ্ছিল শাহাদাত। জমি বিক্রি করে টাকা আনা, মোটরসাইকেল কেনার জন্য তিন লাখ টাকা দাবি করেন। এসব নিয়ে প্রায় ঝগড়া হতো। ঘটনার আগের দিন বিকেলেও শাহাদাত ফোন করে টাকা দাবি করে এবং সাদিয়াকে মারধর করার কথা জানায়।
এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ২৫ নভেম্বর সকাল ১১টা ৩৭ মিনিটের মধ্যে যে কোনো সময়ে শাহাদাত ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুশিশুর গলা কেটে এবং সাদিয়ার গলায় চাপ প্রয়োগ করে হত্যা করে। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়।
পরিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত মরদেহ এবং বিছানার পাশে রক্তবিহীন একটি লোহার বটি দেখতে পায়, যা তাদের কাছে ‘পরিকল্পিত হত্যার আলামত’ বলে মনে হয়েছে।
অপরদিকে শাহাদাতের মা দাবি করেন, সাদিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং পূর্বেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সাদিয়া দুই সন্তানকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করেছেন।
শাজাহানপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মা রাবেয়া সুলতানার করা মামলাটি রের্কড করা হয়েছে। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্বামী শাহাদাত হোসেনকে আসামি দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে আনা হবে। তখন জিজ্ঞাসাবাদে সবকিছু পরিষ্কার হবে।’
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর সকাল ১০টায় শাজাহানপুর উপজেলার খলিশাকান্দি গ্রামে নিজ শয়ন ঘর থেকে গৃহবধূ সাদিয়ার গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত এবং তার দুই শিশু সন্তান সাহিফা ও সাইদের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

