বগুড়ায় হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। বায়ুবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী রোগীরা সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকের চেম্বারে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৩৬ জন।
বগুড়া জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ১১টি উপজেলায় ৩৬ জন হাম আক্রান্ত রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ৫ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। এছাড়া টিএমএসএস রফাতুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে হামে আক্রান্ত ৩ শিশু চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।
বগুড়া জেলার সিভিল সার্জন ডা. খুরশিদ আলম জানান, বগুড়ার ১১ উপজেলায় সম্ভাব্য হামের ৩৬জন রোগী পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে পাঠানো নমুনা থেকে ২৫ জনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ১জনের পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে, ১১জনের রিপোর্ট পেন্ডিং রয়েছে। এছাড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ৫জন সম্ভাব্য হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি রয়েছে বলে তিনি।
শজিমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. মনজুর এ-মুর্শেদ জানান, রবিবার বিকেল পর্যন্ত হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তিনজন হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি রয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচ ও সাত মাস বয়সী দুই শিশু আগে থেকেই ভর্তি ছিল। সাত মাস বয়সী আরেক শিশু রবিবার দুপুরে ভর্তি হয়েছে।
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মজিদুল ইসলাম জানান, শরীরে র্যাশসহ হামের অন্যান্য চিহ্ন নিয়ে আসা এক শিশুকে শজিমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বগুড়া টিএমএসএস’র উপ-নির্বাহী পরিচালক ডা. মতিউর রহমান জানান, হামে আক্রান্ত হয়ে টিএমএসএস হাসপাতালে রোজার আগে তিন শিশু ভর্তি হয়েছিল। তারা চিকিৎসা নিয়ে ঈদের আগেই বাড়ি ফিরেছে।
এদিকে শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গত শুক্রবার থেকে প্রায় ত্রিশ বছর বয়সী সাবা আমরিন নামে এক নারী হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন হোমিও চিকিৎসকের।
সাবা জানান, তার স্বামীর চাকরি সূত্রে ঢাকায় থাকেন। বাবা ও শ্বশুর বাড়ি বগুড়ায়। ঈদের দুদিন পর ঢাকা থেকে বগুড়ায় এসেছেন। আসার পর থেকে গায়ে হাল্কা জ্বর ও সর্দি-কাশি ছিল। শুক্রবার রাতে হঠাৎই তার মুখে তিন-চারটে র্যাশ দেখতে পায়। পরের দিন সকালে সেই র্যাশ পুরো মুখমন্ডলসহ সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্তদের প্রথম ৩ থেকে ৪ দিন জ্বর-সর্দি-কাশি দেখা দেয়। তারপর ৪ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত শরীরে র্যাশ দেখা দেয়। সারতে ২ সপ্তাহ সময় লাগে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা বুঝে ওঠার আগেই (দ্বিতীয় সপ্তাহ) রোগীর জটিলতা শুরু হয়। ৯০ ভাগ রোগীর নিউমোনিয়া, ৬০ থেকে ৭০ ভাগের ডায়রিয়া, ৫০ ভাগের কনজেক্টিভাইটিস (চোখে সংক্রমণ) হয়। এছাড়া স্বল্পসংখ্যক রোগীর সেলুলাইটিস (র্যাশজনিত ইনফেকশন), রক্তে সোডিয়াম (লবণ) কমে যাওয়া, কিডনি ও হার্ট ফেইলিউর, এনকেফাইলাইটিস (মস্তিষ্কে টিস্যুর প্রদাহ) ও খিঁচুনি হয়।
হামের লক্ষণ শুরুর ১০ দিনের মধ্যে নমুনা নিয়ে ‘এলিসা আইজিএম’ পরীক্ষায় রোগটি ধরা পড়ে। বর্তমানে নমুনা পরীক্ষার অধিকাংশই পজিটিভ শনাক্ত হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের ৯০ শতাংশই ১ বছরের কম বয়সি, যাদের বেশির ভাগই টিকা নেয়নি।
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

