বগুড়ায় অভ্যন্তরীণ আমন ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। চলতি বছর বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৯৮৯ মে. টন ধান, ৩৬ হাজার ২৬৯ মে. টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে গত বছর আমন ধানের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করেননি। ফলে ১২ হাজার ৬১০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার স্থলে সংগ্রহ হয়েছিল মাত্র ৮১ মেট্রিক টন ধান। যা লক্ষ্যমাত্রার শূন্য দশমিক ৬৪ ভাগ। তবে এবার ধান ও চালের দাম প্রতি কেজিতে ১ টাকা ও ৩ টাকা বাড়ায় ধান-চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা করছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ বিভাগ। বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
কৃষি অফিসের তথ্য বলছে, গত ২০২৪-২৫ আমন মৌসুমে প্রতি কেজি ৩৩ টাকা করে ১২ হাজার ৬১০ মেট্রিক টন ধান, ৪৭ টাকা কেজি দরে ৩১ হাজার ২৮৪ মে. টন সিদ্ধ চাল ও ৪৬ টাকা কেজি দরে ৩ হাজার ৬১৮ মে. টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সংগ্রহ অভিযান পরিচালিত হয়। সংগ্রহ মৌসুম শেষে সিদ্ধ চাল লক্ষ্যমাত্রার ৭ হাজার ২০৯ মে. টন ও আতপ চাল লক্ষ্যমাত্রার ৮০৫ মে. টন কম সংগ্রহ হয়।
এদিকে ধান সবচেয়ে কম অর্থাৎ মাত্র ৮১ মে. টন সংগ্রহ হয়, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ হাজার ৫২৯ মে. টন কম। গত ২০২৪-২৫ মৌসুমে অভিজ্ঞতার আলোকে সরকার চলতি আমন ধান-চাল সংগ্রহ মৌসুমে ধানের দাম প্রতি কেজি ৩৩ টাকা থেকে ১ টাকা বাড়িয়ে ৩৪ টাকা ও সিদ্ধ চালের দাম ৪৭ টাকা থেকে কেজিতে ৩ টাকা বাড়িয়ে ৫০ টাকা ও আতপ চাল ৪৬ টাকা থেকে ৩ টাকা বাড়িয়ে ৪৯ টাকা কেজি সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করে।
গত ২০ নভেম্বর থেকে আমন ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করে খাদ্য অধিদপ্তর। যা চলবে আগামী ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এছাড়াও ডিজিটাল চাল সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারের মাধ্যমে বগুড়া সদর, শাজাহানপুর, শেরপুর, দুপচাঁচিয়া ও আদমদিঘী উপজেলায় চাল সংগ্রহ করা হবে। এরমধ্যে কৃষকের অ্যাপসর মাধ্যমে বগুড়ার সকল উপজেলায় ধান সংগ্রহ করা হবে।
এবছর বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৯৮৯ মে. টন ধান, ৩৬ হাজার ২৬৯ মে. টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। টাকার অংকে যার মুল্য ১৮৮ কোটি ১০ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৮৯ মে. টন ধানের দাম ৬ কোটি ৭৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা এবং ৩৬ হাজার ২৬৯ মে. টন চালের দাম ১৮১ কোটি ৩৪ লাখ৫০ হাজার টাকা। জেলায় ৫৪টি অটোরাইসমিল, ৬৩৭টি হাসকিং মোট ৬৯১টি চুক্তিযোগ্য মিলের মাধ্যমে এই পরিমাণ চাল সংগ্রহ করা হবে।
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার চালকল মালিক ও ধান ব্যবসায়ী গোলাম মুক্তাদির, ফারুক আহম্মেদ চঞ্চল এবং সোহাগ প্রামাণিক জানান, ‘গত বছর এসময় বাজারে ধানের দাম ছিল রঞ্জিত ১ হাজার ২৮০ টাকা থেকে ১৩০০ টাকা, মামুন ধান ১১৮০ থেকে ১২৫০ টাকা মণ।
বর্তমানেও বাজারে একই দাম চলছে। তবে সরকার গত বছরের চেয়ে এবার ধানের ক্রয়মূল্য প্রতি কেজি ৩৩ টাকা থেকে ১ টাকা বৃদ্ধি এবং চালের মূল্য কেজিতে ৩ টাকা বাড়ানোয় এবার সরকারি গুদামে কাঙ্খিত ধান-চাল সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে।’
বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল কাবির খান জানান, ‘এবার সরকার প্রতি কেজি ধানের ক্রয়মূল্য কেজিতে ১ টাকা ও চালের ক্রয়মূল্য কেজিতে ৩ টাকা বাড়ানোয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা গুদামে ধান-চাল দিতে আহগ্রী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।’
পতাকানিউজ পিএমএএইচ

