আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম–কাহালু) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মনোনয়নপ্রাপ্ত মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর নাটোরের সিংড়া আমলি আদালতে মামলাটি করেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার মাসুদ আলী।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিচারক সারোয়ার জাহান মামলাটি আমলে নিয়ে নাটোর জেলা পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী মাসুদ রানা।
অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন (৫১) বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল গ্রামের মৃত হামির উদ্দিন সরকারের ছেলে। তিনি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য, বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি আগামী জাতীয় নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রাথমিক মনোনয়নও পেয়েছেন।
মামলায় মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ—ব্যাচেলর অব সোশ্যাল সায়েন্স (বিএসএস) সনদ জালিয়াতি করে ভুয়া সনদ তৈরি ও ব্যবহার করে কাহালু উপজেলার আজিজুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সভাপতি পদে নিয়োগ গ্রহণ করার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নাটোর পিবিআই পুলিশ সুপার আল আসাদ মাহফুজুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনার কপি এখনও হাতে পায়নি। কপি পেলে দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা। গত ২৮ মে আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি পাসের মূল সনদ উত্তোলন করেছি। আমার বিরোধীরা পরিকল্পিতভাবে সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এ মামলা করিয়েছে।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নাটোরের সিংড়ার থাওইল গ্রামের মাসুদ আলী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৯৩–৯৪ শিক্ষাবর্ষে বিএসএস বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর-২১২৪৯৩ এবং রোল নম্বর-১৩৬৮৬৯। ওই বছর পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর তিনি আর পরীক্ষা দেননি।
আসামি মোশাররফ হোসেন বাদীর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে একই সেশন দেখিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস পাসের জাল সনদ সংগ্রহ করেন। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর সেই সনদ ব্যবহার করে বগুড়ার আজিজুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
মামলায় বলা হয়, পূর্ববর্তী সভাপতি সনদটি চ্যালেঞ্জ করলে জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পায়। বাদী আশঙ্কা করছেন তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে বড় ধরনের ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড ঘটানো হতে পারে। তাই তিনি মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন।
বাদী মাসুদ আলী বলেন, আমার রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে তিনি জাল সনদ তৈরি করেছেন। তাই আমি মামলা করেছি।
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

