জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ (সদর) আসন ছেড়ে দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে। বর্তমানে শূন্য আসনের উপনির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে শহরজুড়ে। উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন কে কে। কারা কোন দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন। তবে এখনও আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে সামাজিক ও পেশাজীবী মহলে চলছে নানা আলোচনা।
তরুণদের একটি অংশ মনে করছেন, নতুন প্রজন্মের কাছে গ্রহণযোগ্য এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যিনি রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও আধুনিক চিন্তাধারার সমন্বয় ঘটাতে পারবেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান তারা।
তবে এখনও প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে রাজনৈতিক বাস্তবতা, সাংগঠনিক অবস্থা ও জনমত বিবেচনায় কেন্দ্রীয়ভাবে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
দলের মধ্যে যাদের নাম উচ্চারিত হচ্ছে তারা হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবুর রহমান, বগুড়া-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন। এছাড়া আলোচনায় বাইরে আছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সভাপতি ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল।
এদিকে বিএনপির একাধিক নেতার দাবি জিয়া পরিবারের কাউকে এ আসনে প্রার্থী করা হোক। কারণ আসনটি যেহেতু তাদের পারিবারিক। এক্ষেত্রে অনেকেই তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান, তার মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান অথবা আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিনী শর্মিলা রহমান সিঁথিকে এগিয়ে রাখছেন এ আসনের প্রার্থী তালিকায়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী যে পরিমাণ ভোট পেয়েছেন, তাতে জিয়া পরিবারের বাইরে কাউকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে জয়ী হওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এ কারণে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা চাইছেন জিয়া পরিবারের কেউ এ আসনে নির্বাচন করুক।
বগুড়া সদর এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘বগুড়া সবসময়ই জাতীয় রাজনীতিতে আলোচিত একটি জেলা। এখানকার মানুষ এমন একজন প্রতিনিধিকে চান, যিনি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব বহন করবেন এবং এলাকার উন্নয়নেও সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।’
বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ বলেন, ‘এ আসনে জিয়া পরিবারের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এর বাইরে কাউকে দিতে হলে তা জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা অথবা অ্যাডভোটেক একেএম মাহবুবুর রহমানকে দেয়া যেতে পারে। এর বাইরে কাউকে মনোনয়ন দিলে তাকে জয়ী করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু বলেন, ‘এ আসনে নিশ্চিত জয় পেতে হলে জিয়া পরিবারের সদস্যদের মনোনয়ন দিতে হবে।’
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ-উন-নবী সালাম ও কেএম খায়রুল বাশার বলেন, ‘আমাদের ভোটের হিসাব এবং সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়া বুঝতে হবে। যেহেতু বগুড়া সদরের মানুষ দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভোটে দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, সেহেতু উপনির্বাচনে অন্যকোনো নেতার জন্য এই মুহূর্তে ভোট চাওয়া বেশ কঠিন। সেক্ষেত্রে জিয়া পরিবারের মধ্য থেকেই মনোনয়ন দেওয়া প্রয়োজন।’
জেলা বিএনপির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী রোকন তালুকদার বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী যেভাবে তাদের ভোটের মাঠ সাজিয়েছে, তাতে জিয়া পরিবারের বাইরে কাউকে মনোনয়ন দিলে সেটা হবে ঝুঁকিপূর্ণ।’
বগুড়া জেলা বিএমএর সভাপতি ডা. আফসারুল হাবীব রোজ বলেন, ‘আসনটি রক্ষা করতে চাইলে জিয়া পরিবারের সদস্য থাকলেই সবচেয়ে ভালো হবে।’
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আবিদুর রহমান পান ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট।
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

