বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপ-নির্বাচন ও ও শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয় ভোটগ্রহণ। চলবে একটানা বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
এদিকে বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা শহরের হাসনা জাহান (ভান্ডারি) বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় শিববাটি কেন্দ্রে তার ভোট প্রদান করে।
তিনি বলেন, বগুড়া-৬ এটি জিয়া পরিবারের আসন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন। আমরা আশা করছি এই নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। অবাধ সুন্দর ও শান্তিপূর্ন নির্বাচন চলছে। এখন পযন্ত কোনো বাধা বিঘ্ন হয়নি। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবার কেন্দ্রে এসে তাদের ভোট দিবেন ইনশাল্লাহ। জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অপরদিকে সকাল সাড়ে ৭টায় শহরের সেউজগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোট প্রদান করেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। ভোট দেওয়ার পর তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভোটদান শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আবিদুর রহমান বলেন, আল্লাহ তাআলা চাইলে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো। তবে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের যে কালচার, বগুড়া তার ব্যতিক্রম নয়।
বগুড়া-৬
নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৯ জন। ১৫০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের জন্য ৮৩৫টি বুথ প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এবার প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে ৫টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে- বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের পুরাতন ভবনের পুরুষ ও মহিলা কেন্দ্র, ভান্ডারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং বগুড়া করোনেশন ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কেন্দ্রসমূহ।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম বলেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা ১১ এপ্রিল পর্যন্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন। পাশাপাশি নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে নির্বাচিত প্রার্থী বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
এরপরই নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। এবারের উপনির্বাচনে বিএনপি থেকে রেজাউল করিম বাদশা (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী আল আমিন তালুকদার (ফুলকপি) প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।
শেরপুর-৩
শেরপুরে ১২৮ টি ভোটকেন্দ্রের ৭৫১টি ভোটকক্ষে ৪ লাখ ৯ হাজার ৮০৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ১৪০ জন সদস্য, বিজিবি ১৬ প্লাটুন (৩২৮ জন), র্যাবের ১৪টিম (১৩৫ জন), পুলিশ ১১৫৫ জন ও আনসার ভিডিপি ১৭০৪ জন সদস্য নিয়োজিত রয়েছে।
এদিকে ভোটকেন্দ্রে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় বিভিন্ন বাহিনীর ১৮ থেকে ২০ জন নিরাপত্তা সদস্য থাকছে। নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োজিত রয়েছে ৩৬ জন। ইসির নিজস্ব পযবেক্ষক মোতায়েন থাকছে ১৮ জন করে। এছাড়া স্থানীয় সংস্থার পযবেক্ষক আছে চার শতাধিক।
নির্বাচনে বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ওই সময় শেরপুর-৩ আসনে ভোট স্থগিত করা হয়।
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

