বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপ-নির্বাচন ও ও শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচন বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ভোটকেন্দ্রগুলোতে কড়া নিরাপত্তায় ব্যালট পেপারসহ ৪৭ ধরনের প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা এসব নির্বাচনী সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছেন।
বুধবার, ৮ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ জানান, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
বগুড়া-৬
শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত বগুড়া সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৭৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ১০ জন।এছাড়া পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন ৩ হাজার ৭৩৬ জন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদর আসনের মোট ১৫০টি কেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে পৌরসভা এলাকায় ৮৬টি এবং ১১টি ইউনিয়নে ৬৪টি কেন্দ্রকে ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বগুড়া-৬ সদর আসনে ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এর মধ্যে ৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ (অধিক গুরুত্বপূর্ণ), ৪৮টি ঝুঁকিপুর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) ও ৯৭টি সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ (অধিক গুরুত্বপূর্ণ) ৫টি কেন্দ্র হলো, বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ পুরাতন ভবন (উচ্চ মাধ্যমিক ভবন) পুরুষ ভোট কেন্দ্র ও মহিলা ভোট কেন্দ্র, ভান্ডারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, বগুড়া করনেশন ইন্সটিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ পুরুষ এবং মহিলা ভোট কেন্দ্র।
আর সব মিলিয়ে ভোটকক্ষের সংখ্যা ৮৩৫টি যার মধ্যে ৭৮৭ টি স্থায়ী আর অস্থায়ী ৪৮টি।
বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জায়েদ ইবনে আবুল ফজল জানান, নির্বাচনী মাঠে ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ২ হাজার ৬৫৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, ১ হাজার ৩৮২ জন পুলিশ সদস্য, প্রায় ২ হাজার আনসার সদস্য, ৮ প্লাটুন বিজিবি, ১০ প্লাটুন র্যাব, সেনাবাহিনী এবং ডগ স্কোয়াডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন।
উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা (ধানের শীষ), জামায়াতের আবিদুর রহমান সোহেল (দাড়িঁপাল্লা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আল আমিন তালুকদার (ফুলকপি) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রিটার্নিং অফিসার ফজলুল করিম জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধে মাঠে থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে জয়ী হন তারেক রহমান। তিনি একাধিক আসনে নির্বাচিত হওয়ায় বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিলে সেটি শূন্য ঘোষণা করা হয় এবং এ উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়।
শেরপুর–৩
শেরপুরে ১২৮ টি ভোটকেন্দ্রের ৭৫১টি ভোটকক্ষে ৪ লাখ ৯ হাজার ৮০৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ১৪০ জন সদস্য, বিজিবি ১৬ প্লাটুন (৩২৮ জন), র্যাবের ১৪টিম (১৩৫ জন), পুলিশ ১১৫৫ জন ও আনসার ভিডিপি ১৭০৪ জন সদস্য নিয়োজিত রয়েছে।
এদিকে ভোটকেন্দ্রে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় বিভিন্ন বাহিনীর ১৮ থেকে ২০ জন নিরাপত্তা সদস্য থাকছে। নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োজিত রয়েছে ৩৬ জন। ইসির নিজস্ব পযবেক্ষক মোতায়েন থাকছে ১৮ জন করে। এছাড়া স্থানীয় সংস্থার পযবেক্ষক আছে চার শতাধিক।
নির্বাচনে বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ওই সময় শেরপুর-৩ আসনে ভোট স্থগিত করা হয়। বৃহস্পতিবার সেখানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

