শাহবাগ থানার সামনে মাইকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে গ্রেপ্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী ও বামনেত্রী শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার, ৮ মার্চ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
অপর দুই আসামি হলেন- নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল শাখার সাবেক কর্মসংস্থান সম্পাদক মো. আসিফ আহমেদ সৈকত ও আব্দুল আল মামুন।
আসামিদের আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. আশাদুল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রবিবার, ৭ মার্চ রাতে গ্রেপ্তার এ তিনজনসহ অজ্ঞাত ২০-৩০ জনের জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।
মামলায় বলা হয়েছে, গত শনিবার বিকেল ৩টায় শাহবাগ থানাধীন শহীদুল্লাহ হল ক্রসিং এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কতিপয় সদস্য সমবেত হয়ে মাইকে ৭ মার্চের ভাষণ বাজাচ্ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পালানোর চেষ্টাকালে স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সাবেক কর্মসংস্থান সম্পাদক মো. আসিফ আহমেদ সৈকতকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে একইদিন রাত ৯টা ২০ মিনিটে জাতীয় জাদুঘরের ১ নম্বর গেটের সামনে আব্দুল আল মামুন ও শেখ তাসনিম আফরোজ ইমির নেতৃত্বে আরও ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জড়ো হন।
শাহবাগ থানা মসজিদে তখন তারাবিহ নামাজ চলছিল। আসামিরা মসজিদের দিকে মুখ করে লাউড স্পিকারে উস্কানিমূলক স্লোগান দেন। এছাড়া তারা সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম সচল করার চেষ্টা করেন। তখন আসামিরা পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করেন এবং থানা হেফাজত থেকে আসামি আসিফ আহমেদ সৈকতকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু প্রতিনিধি এ বি যুবায়ের এবং মোহাম্মদ মোসাদ্দেকের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী আব্দুল আল মামুন ও শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
পতাকানিউজ/এএ/আরবি

