চার দিন পর চট্টগ্রাম বন্দরে ট্রাক প্রবেশ আবারও চালু হয়েছে। তবে অচলাবস্থার অবসান ঘটলেও বন্দর গেটে দেখা মিলছে নতুন এক চিত্র। চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম জেলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নামে তোলা এ চাঁদা সদস্যদের কল্যাণে ব্যয় হয়- এমন দাবি করেছেন সংগঠনের এক নতো। তবে, ট্রাক চালকরা বলছেন, তারা কখনো কোনো সহায়তা পাননি, কে পেয়েছেন তাও জানেন না।
রবিবার, ১৯ অক্টোবর দুপুর থেকে বন্দরে ট্রাক চলাচল শুরু হয়। কিন্তু সোমবার সকালেই দেখা যায় বন্দরের বিভিন্ন প্রবেশ গেটে ট্রাক প্রতি ৩০ টাকা করে চাঁদা নিচ্ছেন শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মীরা। রশিদে লেখা আছে পরিচালনা ব্যয় বাবদ ১০ টাকা, কল্যাণ তহবিল বাবদ ৫ টাকা, এবং মৃত ও আহত সদস্যদের কল্যাণ তহবিল বাবদ ১৫ টাকা, সর্বমোট ৩০ টাকা।
রশিদে লেখা রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং চট্ট ১৯৪৯)-এর নাম। কার্যালয় হিসেবে উল্লেখ রয়েছে- বন্দরের ১ নম্বর গেটের পাশে বারেক বিল্ডিং। রশিদটিতে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরও রয়েছে।
চাঁদা তোলার সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ওসমান, যিনি ২০১০ সাল থেকে এ ইউনিয়নের নেতৃত্বে আছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই ফান্ড থেকে এখন পর্যন্ত ৫০০ বেশি সদস্যকে সাহায্য করা হয়েছে। আহত বা মৃত শ্রমিকদের জন্য আমরা নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে লাশ বা রোগী বাড়িতে পৌঁছে দিই। কেউ মারা গেলে দাফন-কাফনের জন্য ১০ হাজার টাকা, আর পরিবারকে দেয়া হয় ৬০ হাজার টাকা সহায়তা। দুর্ঘটনায় আহত হলে চিকিৎসা ভাতাও দেয়া হয়।’

তবে অনেক ট্রাকচালকই এই ফান্ড বা সহায়তা সম্পর্কে জানেন না। মোহাম্মদ সাহিন নামে এক ট্রাকচালক বলেন, ‘এই টাকাগুলো তো বড় ভাইয়েরা নেয়, আমরা কোনো কাজ দেখি না। কে পায় এই টাকা, কেউ জানে না।’ আরেক চালক জানান, ‘আমাদের বলা হয়েছে ১ তারিখ থেকে চাঁদা শুরু হয়েছে, কিন্তু কেন নিচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে, কিছুই জানি না।’
চাঁদা না দেয়াকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম নামে এক ট্রাকচালকের সঙ্গে সংগঠনের কর্মীদের বাকবিতণ্ডা হয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি কোনো চাঁদা দিব না। ৫ আগস্টের পর কোনো চাঁদা নাই দেশে, আমি চাঁদা না দিলে কি জোর করে নিবেন? অনেক ড্রাইভার আছে খাইতে পায় না, তাদের দেন এই টাকা, কয়জন পায়?’
অন্যদিকে এই বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের বন্দর বিষয়ক সম্পাদক জহির উদ্দিন খান টিপু জানান, ‘আমাদের সংগঠন সরকার অনুমোদিত। তবে বর্তমানে এটি বন্ধ রয়েছে। অনেক দিন ধরেই এটি বন্ধ আছে।’

তবে বাস্তবে দেখা গেছে, রশিদসহ প্রতিটি ট্রাক থেকেই টাকা নেয়া হচ্ছে। চালকদের বেশিরভাগই জানেন না এটি সরকারি অনুমোদিত ফান্ড নাকি সংগঠনের নিজস্ব উদ্যোগে গঠিত কোনো তহবিল।
সাম্প্রতিক চার দিনের অচলাবস্থার পর ট্রাক চলাচল শুরু হওয়ায় পণ্য পরিবহনে স্বস্তি ফিরলেও চাঁদার এই নতুন ধারা আবারও বিতর্ক তৈরি করেছে। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। এখানে শ্রমিক সংগঠন, পরিবহন মালিক ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে এর প্রভাব পড়ে সমগ্র অর্থনীতিতে। তাই এই ‘কল্যাণ তহবিল’ নামে চাঁদা আদায় কতটা আইনসম্মত ও স্বচ্ছ, তা খতিয়ে দেখা জরুরি মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পতাকানিউজ/এএইচ

