চট্টগ্রাম নগরীর হিলভিউ এলাকা থেকে আটক দুই শিশুকে আদালতে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়ার পর পুলিশ যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবার বলেছে, বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ নথিতে তাদের বয়স বাড়িয়ে উল্লেখ করেছে এবং প্রকৃত বয়স যাচাই করার চেষ্টা করেনি। ফলে শিশুরা শিশু হিসেবে প্রাপ্য আইনি সুরক্ষায় বঞ্চিত হয়েছে।
ঘটনা ঘটে ৯ জানুয়ারি রাতে। ওই রাতে হিলভিউ এক নম্বর সড়ক থেকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার টহল দল মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ও মো. সাদমান হোসেনকে আটক করে। একজনের কাছে একটি ইলেকট্রিক টেজার গান পাওয়া যায়। পুলিশের নথিতে তাদের বয়স ১৮ বছর হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পরের দিন তারা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সাত্তারের আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিচারক তাদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন। আরিফুর রহমান বর্তমানে দাখিল পরীক্ষার্থী এবং সাদমান হোসেন সাবেক ছাত্র। তাদের জন্ম সনদ অনুযায়ী, আরিফুরের বয়স ১৫ বছর দুই মাস, এবং সাদমানের বয়স ১৭ বছর তিন মাস।
শিশুদের আইনজীবী সৌরভ চৌধুরী আদালতে বয়স-প্রমাণসহ দণ্ড স্থগিত ও মুক্তির আবেদন করেন। তবে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলাম আবেদন নাকচ করেন। সৌরভ বলেন, ‘তারা দুজনই শিশু। পুলিশ তাদের বয়স বাড়িয়ে দেখিয়েছে এবং ভবঘুরে সাজিয়ে আদালতে উপস্থাপন করেছে। তাদের শিশু আইনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। শিশুদের বিচার শিশু আদালতে হওয়া উচিত। এখানে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তারা সাধারণ দোষীদের সঙ্গে তিন দিন অবস্থান করেছে, যা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
পুলিশ জানায়, আটককালে শিশুরা নিজেদের বয়স ১৮ বছর জানিয়েছিল এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো নথি জমা দেওয়া হয়নি। তবে পরিবার এবং শিশুরা দাবি করছে, তারা সত্যি বয়স জানিয়েছিল এবং আদালতকে জন্ম সনদসহ প্রমাণও দেখাতে চেয়েছিল।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া আহসান হাবীব বলেছেন, ‘শিশু আইনের অনুযায়ী, শিশুকে শিশু আদালতে উপস্থাপন করতে হবে এবং সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো উচিত। সাধারণ কারাগারে রাখা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এখানে পুলিশের দায় বেশি, কারণ তারা শুরুতেই বয়স বাড়িয়ে দেখিয়েছে।’
শিশুর বয়স বেশি দেখানোর বিষয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘সন্দেহজনক আচরণের কারণে তাদের তল্লাশি করে একজনের কাছ থেকে একটি ইলেকট্রিক শক মেশিন (টেজার গান) পাওয়া যায়। থানায় আনার পর তারা তাদের বয়স ১৮ জানিয়েছিল। ওইদিন শিশুদের পরিবার বয়স সংক্রান্ত কোনো প্রমাণপত্র পুলিশকে দেয়নি। তাই আটককৃতরা যা বলেছে, সেটি লেখা হয়েছে।’
-পতাকানিউজ

