বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান ও মায়ানমারসহ ৭৫টি দেশের ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এছাড়া ফক্স নিউজ এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভিসা স্থগিতের এ কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ২১ জানুয়ারি।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এ নতুন নির্দেশনায় কনসুলার অফিসারদের স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, বর্তমান স্ক্রিনিং ও ভেটিং প্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই না করা পর্যন্ত উল্লিখিত দেশগুলোর ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে হবে। মূলত যারা যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি জনকল্যাণমূলক তহবিল বা ওয়েলফেয়ারের সুবিধা নিয়ে থাকেন, তাদের সংখ্যা কমিয়ে আনাই এ পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ব ব্যবহার করে অযোগ্য সম্ভাব্য অভিবাসীদের বিবেচনা করবে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর জনসাধারণের অভিযোগে পরিণত হবে এবং আমেরিকান জনগণের উদারতাকে কাজে লাগাবে। এই ৭৫টি দেশ থেকে অভিবাসন স্থগিত রাখা হবে, যখন পররাষ্ট্র দপ্তর অভিবাসন প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়ন করবে, যাতে কল্যাণ ও জনসাধারণের সুবিধা গ্রহণকারী বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ রোধ করা যায়।’
তিনি জানান, এই পদক্ষেপের বাস্তবায়ন ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে এবং বিভাগ ভিসা প্রক্রিয়াকরণের পুনর্মূল্যায়ন না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য অব্যাহত থাকবে। প্রসঙ্গত, ট্রাম্প প্রশাসন প্রথম বছরে এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে।
ভিসা স্থগিত হওয়া দেশগুলো হলো—আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বাংলাদেশ, বার্বাডোজ, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, মায়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রানাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্দান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, ম্যাসিডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টিনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিশিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কনসুলার কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে এখন থেকে আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং আর্থিক সচ্ছলতাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। এমনকি কোনো আবেদনকারীর দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন বা আগে সরকারি সাহায্য নেওয়ার রেকর্ড থাকলে তাকে ভিসা দেয়া হবে না। অতিরিক্ত ওজন বা বার্ধক্যজনিত কারণেও আবেদন বাতিলের শঙ্কা তৈরি হয়েছে এ নতুন নিয়মে।
এদিকে এমন সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর হাজার হাজার ভিসা আবেদনকারী চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেন। বিশেষ করে যারা পারিবারিক আবেদন কিংবা লটারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে থিতু হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন, তাদের সেই প্রক্রিয়া এখন অনির্দিষ্টকালের জন্য থমকে গেল। খুব সীমিত এবং বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া এই স্থগিতাদেশ থেকে ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।
পতাকানিউজ/আরবি

