মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ আইরিন খান বলেছেন, সাংবাদিক ও শিল্পীদের বিরুদ্ধে জনরোষকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
বাংলাদেশ যখন একটি নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, তখন এমন পরিস্থিতি আরও বেশি উদ্বেগজনক। এর পরিণতি গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হতে পারে।
দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার নিন্দা জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের ওয়েবসাইটে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আইরিন খান জাতিসংঘের মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তার ধারাবাহিকতায় ডেইলি স্টার, প্রথম আলো ও ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে আগুন দেওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একই সময় নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদকের ওপরও হামলা হয়।
আইরিন খান বলেন, একজন অনুপ্রেরণাদায়ী নেতাকে গুলিতে হত্যার পর সাংবাদিক ও শিল্পীদের লক্ষ্য করে যে সংগঠিত সহিংসতা চালানো হয়েছে, তা গভীর উদ্বেগজনক এবং নিন্দনীয়। তিনি এসব হামলার দ্রুত ও কার্যকর তদন্ত করে দায়ীদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, এসব হামলা হঠাৎ করে ঘটেনি। দায়মুক্তির সংস্কৃতি মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা এবং গণমাধ্যম ও শিল্পের স্বাধীনতা সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত এক বছরে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি—উভয় পর্যায় থেকেই (অনলাইন ও অফলাইন) বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্য চাপের মুখে পড়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত শতাধিক সাংবাদিককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হত্যা, সন্ত্রাসবাদসহ নানা গুরুতর অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার আগের মতোই দায়মুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, যার ফলে হামলা ও হুমকি কার্যত স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
পতাকানিউজ/এআই

