বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ আজ মাঠে নামছে একে অপরের বিপক্ষে, তবে ম্যাচের আগে দুই দলই রয়েছে নিজেদের দলগঠনের ধাঁধা নিয়ে চিন্তায়। বাংলাদেশের একাদশে সৌম্য সরকার ও মাহিদুল ইসলাম অনায়াসেই জায়গা পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ইনজুরির কারণে অনুপস্থিত এভিন লুইসের পরিবর্তে সবচেয়ে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন অ্যালিক আথানাজ।
আজ বেলা দেড়টায় মিরপুর শেরে বাংলা ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ৩ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। মিরপুরের উইকেট নিয়ে সতর্ক ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আর দীর্ঘদিনের ওয়ানডে মন্দা কাটিয়ে উঠতে মরিয়া বাংলাদেশ। র্যাঙ্কিং পয়েন্ট ও ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজে ইতিহাসও বলছে, দুই দলের শক্তি প্রায় সমান —এখন পর্যন্ত ছয়টি করে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে উভয় দলই।
বাংলাদেশের সামনে বড় প্রশ্ন এখন ব্যাটিং লাইনআপের সমাধান। সৌম্য সরকারের দলে অন্তর্ভুক্তি মানে তরুণ তানজিদ হাসানকে হয়তো এবারও বেঞ্চেই থাকতে হবে। সাইফ হাসান প্রায় নিশ্চিত পছন্দ হলেও নিজের অবস্থান মজবুত করতে তার দরকার একটি বড় ইনিংস। অন্যদিকে, সাবেক অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ফর্ম এখনও চিন্তার কারণ— যদিও আগের অনেকের চেয়ে তিনি পাচ্ছেন আরও বেশি সুযোগ নিজেকে প্রমাণের।

তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলি ও নুরুল হাসানও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট হাতে কিছু করতে পারেননি। মেহেদী হাসান মিরাজ যদিও কিছু রান করেছেন, কিন্তু গত দুই ওয়ানডে সিরিজে তার স্ট্রাইক রেট নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এই অবস্থায় নির্বাচকরা নতুন করে যুক্ত করেছেন মাহিদুল ইসলামকে, আর মিডল অর্ডারে আরেক বিকল্প হিসেবে আছেন শামীম হোসেন।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভরসা এখন বোলিং বিভাগ। পেসারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে সুচারুভাবে, আর তারা বেশিরভাগ কন্ডিশনেই ভালো পারফর্ম করেছে। স্পিনার রিশাদ হোসেন ও তানভীর ইসলামও সাম্প্রতিক সময়ে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন দারুণভাবে। শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট দেখে তারাও নিশ্চয়ই মুখে হাসি লুকোতে পারছেন না।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি একই রকম। সাম্প্রতিক সময়ে দলকে সাফল্য এনে দেয়া স্পিন জুটি গুডাকেশ মটি ও রস্টন চেজ এবারও বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। ব্যাটিংয়ে অভিজ্ঞতা আনবেন শাই হোপ ও চেজ, আর ব্র্যান্ডন কিং, কেসি কার্টি, অ্যালিক আথানাজ ও আমির জানগু মিলে গড়ে তুলবেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাকি ব্যাটিং শক্তি।

জেডেন সিলসেরও বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার স্মৃতি সুখকর। ২০২৪ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে দারুণ বোলিং করেছিলেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ ওয়ানডে সিরিজেও ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে —তৃতীয় ওয়ানডেতে একাই নিয়েছিলেন ছয় উইকেট।
আফগানিস্তান সিরিজে বাংলাদেশের খুব কম ধারাবাহিক পারফর্মারের একজন ছিলেন তানভীর ইসলাম। তিন ম্যাচে মাত্র চারটি উইকেট নিলেও প্রতিটি খেলাতেই তিনি বোলিংয়ে রেখেছেন নিয়ন্ত্রণ ও ধারাবাহিকতা। তৃতীয় ওয়ানডেতে আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে আউট করা তার ঘূর্ণির বলটি যেন তুলে ধরেছে— বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে তার পরিপক্বতা কতটা বেড়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে তিনি কয়েকজন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচিত খেলোয়াড়ের একজন।
অন্যদিকে, কেসি কার্টি এখনো ক্যারিয়ারের শুরুর পর্যায়ে থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপে তিন নম্বর স্থানে এনে দিয়েছেন এক বিরল স্থিতি। এই পজিশনে তার গড় পঞ্চাশের বেশি, রানও ১১০০-এর ওপরে। নিয়মিত বাউন্ডারি খুঁজে নেয়ার দক্ষতার পাশাপাশি পরিস্থিতি বুঝে ইনিংস গড়ার পরিপক্বতাও আছে তার খেলায়। আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে করা তার সেঞ্চুরিগুলো প্রমাণ করে— বিভিন্ন কন্ডিশনে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে খেলার সামর্থ্যও তার রয়েছে।
সম্ভাব্য বাংলাদেশ একাদশ:
সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহিদুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), জাকের আলি, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটকিপার), রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা, তানভীর ইসলাম, হাসান মাহমুদ
সম্ভাব্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ:
ব্র্যান্ডন কিং, অ্যালিক আথানাজ, কেসি কার্টি, শাই হোপ (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), শারফেইন রাদারফোর্ড, রস্টন চেজ, গুডাকেশ মটি, জাস্টিন গ্রিভস, রোমারিও শেফার্ড, শামার জোসেফ, জেডেন সিলস
সূত্র : ইএসপিএন ক্রিকইনফো
পতাকানিউজ/কেএস

