টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে না দেখা—এই অনুপস্থিতি শুধু একটি দলের নয়, পুরো উপমহাদেশের ক্রিকেট আবেগের ঘাটতি। কলম্বোয় বিশ্বকাপ শুরুর আগে অধিনায়কদের সংবাদ সম্মেলনে এমনই আক্ষেপের সুর শোনা গেল পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগার কণ্ঠে।
স্পষ্ট ভাষায় তিনি বললেন, বাংলাদেশের না থাকা দুঃখজনক। পাকিস্তানের চোখে বাংলাদেশ শুধু প্রতিপক্ষ নয়, বরং ‘ভাইপ্রতিম’ একটি দল—যাদের সমর্থন ও বন্ধুত্বের কথা আলাদা করে উল্লেখ করতেও ভুললেন না সালমান।
তবে এই সংবাদ সম্মেলনের মূল আলোচনার কেন্দ্রে ছিল আরেকটি স্পর্শকাতর বিষয়—পাকিস্তানের ভারত-ম্যাচ বয়কট সিদ্ধান্ত। সালমান স্বীকার করলেন, এই সিদ্ধান্তে সমর্থকেরা হতাশ হবেন। তবু মাঠের বাইরের বাস্তবতাকে পাশ কাটানোর সুযোগ নেই।
পাকিস্তান অধিনায়ক সাফ জানিয়ে দিলেন, ভারত ম্যাচ খেলা বা না খেলা ক্রিকেটারদের হাতে নেই। “ভারত–ম্যাচ আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এটা সরকারের সিদ্ধান্ত, আর আমরা সেটাকে সম্মান করি। সরকার যা বলবে, আমরা সেটাই করব,” বলেন সালমান। তারপরই যোগ করেন বাস্তববাদী বার্তা—“আমাদের সামনে আরও তিনটি গ্রুপ ম্যাচ আছে। সেগুলো নিয়েই এখন আমাদের সব মনোযোগ ও রোমাঞ্চ।”
এই টানাপোড়েনের পেছনের গল্পটা অবশ্য ক্রিকেটবিশ্বের অজানা নয়। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ সরকার ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে দল পাঠাতে সম্মত হয়নি। পরবর্তীতে আইসিসি বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিলে, প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান সরকার বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়। ক্রিকেট এখানে আর শুধু ক্রিকেট থাকেনি—ঢুকে পড়েছে কূটনীতি, নিরাপত্তা আর রাষ্ট্রীয় অবস্থান।
বাংলাদেশের না থাকা প্রসঙ্গে সালমান আগার কণ্ঠে তাই ছিল আন্তরিকতার ছোঁয়া। “বাংলাদেশিরা আমাদের ভাই। পাকিস্তানের প্রতি তাদের সমর্থনের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এটা সত্যিই দুঃখজনক যে তারা এই বিশ্বকাপে নেই,” বলেন তিনি।

গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান ও ভারতের মুখোমুখি না হলেও টুর্নামেন্টের গল্প এখানেই শেষ নয়। নকআউট পর্বে—সেমিফাইনাল কিংবা ফাইনালে—দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর দেখা হয়ে যেতে পারে। সেই সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের অবস্থান কী—এই প্রশ্নও উঠেছিল সংবাদ সম্মেলনে।
উত্তরে সালমান আবারও সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখেন, “যদি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলতে হয়, তাহলে আমাদের সরকারের কাছে যেতে হবে এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হবে।”
গ্রুপ ‘এ’-তে পাকিস্তানের সঙ্গে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র ও নামিবিয়া। ভারত না থাকলেও গ্রুপটি মোটেই সহজ নয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র—যাদের বিপক্ষে গত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অপ্রত্যাশিত হার হজম করতে হয়েছিল পাকিস্তানকে।
সেই স্মৃতির কথাও অকপটে স্বীকার করেন সালমান। তবে সঙ্গে দেন আত্মবিশ্বাসের বার্তা,
“হ্যাঁ, আগের বিশ্বকাপে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরেছিলাম। কিন্তু সেটা এখন ইতিহাস। এটা নতুন বিশ্বকাপ, নতুন দল, নতুন কম্বিনেশন।”
এই বিশ্বকাপ সালমান আগার জন্য ব্যক্তিগতভাবেও বিশেষ। অধিনায়ক হিসেবে এটি তার প্রথম টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। উত্তেজনা লুকোনোর চেষ্টাও করলেন না তিনি।
“অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে কীভাবে মেলে ধরব, সেটা পুরোপুরি জানি না। তবে আমি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে চাই। একজন খেলোয়াড় হিসেবে নিজের কাজটা করতে চাই এবং দল থেকে সেরাটা বের করে আনতে চাই। এমন একটা আবহ তৈরি করতে চাই, যাতে সবাই নিঃসংকোচে সেরা ক্রিকেটটা খেলতে পারে।”
সব নাটক, সব অনিশ্চয়তার মাঝেও পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হচ্ছে নির্ধারিত সূচি মেনেই। ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ দিয়ে মাঠে নামবে সালমান আগার দল। মাঠের ভেতরের লড়াই শুরু হবে তখনই—যেখানে রাজনীতির ছায়া থাকলেও শেষ কথা বলবে ব্যাট আর বলই।
-পতাকানিউজ

