সুদসহ পূর্ণ আমানত ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকের একদল আমানতকারী। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দাবি আদায়ে অবস্থান ধরে রাখেন।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা শাপলা চত্বরসংলগ্ন প্রধান সড়ক অবরোধ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সরাতে জলকামান ব্যবহার করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা থাকলেও বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।
একীভূত করা পাঁচ ব্যাংক হলো— ইউনিয়ন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল, সোশ্যাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক। এসব ব্যাংককে একত্র করে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। দীর্ঘদিন ধরে এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া ঘিরে আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
আমানতকারীদের অভিযোগ, সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের ওপর মাত্র ৪ শতাংশ করে মুনাফা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা ‘হেয়ার কাট’ হিসেবে পরিচিত। তাঁদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক গ্রাহক তাঁদের মূলধন ও প্রাপ্য মুনাফা তুলতে পারছেন না। এতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, আমানতের ওপর মুনাফা কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অমানবিক ও অন্যায্য। তাঁদের মতে, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের সঙ্গে এটি বিশ্বাসভঙ্গের শামিল। সিদ্ধান্ত বাতিল করে সুদসহ সম্পূর্ণ আমানত ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন পুনরায় চালুর দাবি জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে এখনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দাবি পূরণ না হলে আগামী ১২ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।
আমানতকারীদের এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া ঘিরে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা আবারও সামনে এসেছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গ্রাহক আস্থা—এই দুই বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ও কার্যকর সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
-পতাকানিউজ

