আগামী এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) মার্কিন ডলারের সয়াবিনবীজ আমদানি করবে বাংলাদেশের তিন বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী। মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (USSEC) ও ইউএস সয়-এর সঙ্গে আগ্রহপত্র (Letter of Intent–LOI) সই করেছে দেশের তিন শীর্ষ কোম্পানি- মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি গ্রুপ ও ডেল্টা অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ।
এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে কৃষিপণ্য বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে, এ সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের সয়ামিল খাত বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সয়াবিনবীজ সরবরাহকারী দেশ এতদিন ছিল ভারত।
বুধবার, ৫ নভেম্বর এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানায়, ২০২৪-২৫ তেলবছরে এমনিতেই ভারতের সয়ামিল রপ্তানি হ্রাস পেয়েছিল। গত অর্থবছরে বাংলাদেশে তাদের রপ্তানি কমে দাঁড়ায় মাত্র ১.৬৩ লাখ টনে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৬ শতাংশ কম। এখন বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশাল অঙ্কের এই আমদানি চুক্তি করায় ভারতীয় রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ভারতের সয়াবিন প্রসেসর অ্যাসোসিয়েশন (SOPA)-এর পরিচালক ডি. এন. পাঠক বলেন, বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলক কমদামে সয়াবিন কিনছে। এর ফলে আমাদের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ১ বিলিয়ন ডলারের এই নতুন চুক্তির মানে হলো- বাংলাদেশ ভারত থেকে সয়াবিন নেওয়া অনেকাংশেই বন্ধ করবে, যা আমাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর তথ্যমতে, সয়াবিনবীজ আমদানি হয় মূলত ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। গত অর্থবছরে মোট ১৭ লাখ ৩৫ হাজার টন সয়াবিনবীজ আমদানি হয়েছিল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭৮ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছিল ৩৫ কোটি ডলারের সয়াবিনবীজ।
ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, নতুন চুক্তির ফলে এর পরিমাণ আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু খাদ্যনিরাপত্তায় নয়, কূটনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরো মজবুত করেছে। যার ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একক প্রভাবের ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
পতাকানিউজ/এনএফএম

