টেকনাফে এবারে বাঙ্গির বাম্পার ফলন হয়েছে। অন্য সবজি চাষে কৃষকেরা বিনিয়োগকৃত অর্থের সিংহভাগ লোকসান দিলেও বাঙ্গি বা ফুটি চাষ করে লাভের মুখ দেখেছেন। বাঙ্গি চাষীদের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে।
অত্যাধিক সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকরী ফল হওয়ায় ভোক্তাদের কাছে বাঙ্গির চাহিদা বাড়ছে। টেকনাফের অল্প সংখ্যক কৃষক বাঙ্গি চাষে জড়িত। তারপরও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ভালো বাজারে। দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।
সঠিক মাত্রায় পরিচর্যা করতে পারলে বাঙ্গি ক্ষেত করে কৃষকরা অধিকহারে লাভবান হতে পারে। অন্য সবজি চাষের মত এ চাষে তেমনটি ঝুঁকি নেই। চলতি মৌসুমে চাষীরা বাঙ্গি চাষ করে রীতিমত হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন। বাঙ্গি চাষে তরমুজের চেয়ে খরচ কম। আর ক্রেতাদের চাহিদা বেশি।
কৃষি অধিদপ্তর প্রতি বছর মাঠপর্যায়ে কৃষি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে গ্রামীণ কৃষি ও কৃষক আরো বেশী লাভবান হবেন বলে মন্তব্য করেছেন পানখালী এলাকার কৃষক আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, এই বছর মাত্র ৩০-৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে বাঙ্গি চাষ করেছি। এই পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ টাকার বাঙ্গি বিক্রি করেছি। সিকদারপাড়া এলাকার কৃষক রশিদ ৬০ শতক জমিতে ১৫ হাজার টাকা খরচে বাঙ্গি ক্ষেত করে দেড় লক্ষাধিক টাকা পেয়েছেন।
অপরদিকে লেচুয়াপ্রাং এলাকার শফিক ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১০০ শতক জমিতে চাষ করে দেড় লাখ টাকা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই বছর বাঙ্গি ক্ষেত অনেক কৃষক লাভবান হয়েছেন।
কৃষকরা জানান, বাঙ্গি চাষে প্রতি কানি বা ৪০ শতক জমিতে ৭-৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়। কানি প্রতি ২০ কেজি ইউরিয়া, ২০ কেজি টিএসপি, ১০ কেজি এমওপি ও ১ কেজি ফুরাডানসহ প্রায় প্রায় ১৫০০ টাকা। ১ দিন পর পর জমিতে সেচ দিয়ে ১০০-১২০ দিনের মধ্যে এ ফল বিক্রির উপযোগি হয়।
এ বছর টেকনাফের চাষীরা সবজির সঙ্গে বাঙ্গি বীজ বপন করেছেন। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার হ্নীলার পানখালী, লেচুয়াপ্রাং, খন্ডাকাটা, মরিচ্যাঘোনা, হোয়াইক্যংয়ের রইক্ষ্যং, কম্বনিয়াপাড়া, দৈংগ্যাকাটা, বাহারছড়ার জাহাজপুরা, মাথাভাঙ্গা, কচ্ছপিয়াপাড়া, নোয়াখালীয়া পাড়া সহ বিচ্ছিন্ন কিছু গ্রামে কৃষক সনাতন পদ্ধতিতে এ ক্ষেতের চাষ করে আশাতীত সাফল্য পেয়েছেন।
কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের উন্নত জাত সম্পর্কে ধারণা ও চাষে উদ্ধুদ্ধ করলে গ্রামীণ কৃষকরা আরো বেশী লাভবান হবেন বলে ধারণা করা যায়।
টেকনাফ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. শফিউল আলম কুতুবী জানান, এ বছর টেকনাফ উপজেলায় ৫ হেক্টর জমিতে বাঙ্গির চাষা হয়েছে। কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ, উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের উন্নত জাত সম্পর্কে ধারণা ও চাষে উদ্ধুদ্ধ করায় বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে এই সময় আবহাওয়া অনুকূলে ছিল। ফলে বাঙ্গি চাষে সাফল্য পাওয়া গেছে।

বাঙ্গির স্বাস্থ্য বন্দনা
বাঙ্গি মূলত গ্রীষ্মকালীন ফল। এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর। এটি ফুটি নামেও পরিচিত। বাঙ্গি শরীর ঠাণ্ডা রাখে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর শর্করা ও ক্যারোটিন আছে।
উচ্চ রক্তচাপ, অন্দ্রিা, অ্যাসিডিটি ও ওজন নিয়ন্ত্রণে বাঙ্গির ভূমিকা অপরীসিম। বাঙ্গিতে কোনো ধরনের ফ্যাট নেই। ফলে নেতিবাচক দিক কম।
নিয়মিত বাঙ্গি খেলে ত্বকের বয়স ধরে রাখে এবং উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এছাড়া দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখা এবং ভিটামিন এ সরবরাহ করে শরীরে। ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ ফল হওয়ায় বাঙ্গি গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিশেষ উপকারী। এছাড়া ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে, আলসার, ক্ষুধামন্দা দূর করতে বাঙ্গি উপকারী ফল।
তবে সতর্কতাও আছে কিছু। অতিরিক্ত বাঙ্গি খেলে সুগার বাড়তে পারে। এছাড়া যাদের কিডনি সমস্যা আছে, তাদের পরিমিত খেতে হবে। কারণ বাঙ্গিতে উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম আছে।
-পতাকানিউজ/এমজেসি

