বগুড়ার বাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতের আগাম সবজি। তবে সব সবজির চড়া দাম। শিম, ফুলকপি, মুলা, বাঁধাকপি, লাউসহ নানা সবজির দাম গত বছরের তুলনায় এবার তুলনামূলক বেশি। তবে এবার ফলন হয়েছে ভালো এবং প্রত্যাশিত দাম পাওয়ায় খুশি কৃষকরা।
কৃষকরা বলছেন, আগাম বাজারজাত করায় ভালো লাভ হচ্ছে। বগুড়ার মহাস্থান হাট থেকে দেশজুড়ে যাচ্ছে সবজি। মৌসুম শেষে উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পোকামাকড় ও রোগবালাই কম থাকায় কৃষক কীটনাশকমুক্ত সবজি উৎপাদন করতে পারছেন।
এদিকে বগুড়ার বাজারে আগাম সবজি বাজারজাত শুরু হয়েছে কয়েক সপ্তাহ আগে। শিম, বরবটি, মুলা, ধনেপাতা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি।
কৃষকরা জানান, এবার ফলনও ভালো হয়েছে। দামও প্রত্যাশিত মিলছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বৃষ্টির কিছু প্রভাব থাকলেও মৌসুম শেষে ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হবে।
সরেজমিন মহাস্থান সবজি মোকাম ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি ৪ হাজার টাকা মণ, বাঁধাকপি ৩ হাজার ৬০০ টাকা মণ, বরবটি ২ হাজার টাকা মণ, মূলা ১ হাজার ১০০ টাকা মণ, সিম ৫ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
শিবগঞ্জ উপজেলার ধোন্দাকোলা গ্রামের কৃষক কাদের মুন্সি বলেন, ‘১৮ শতাংশ জমিতে শিম চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। দামও প্রত্যাশিত। গত বছর প্রতি কেজি শিম বিক্রি করেছি ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়। এবার বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। এরকম দাম থাকলে ভালো লাভ হবে।’
মহাস্থান হাটের খুচরা বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর খুচরা বাজারে শিম বিক্রি হয়েছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। এবার দাম ১৪০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে। ধনেপাতার কেজি এখন ৪০০ টাকা। যা গত বছর ছিল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে। ফুলকপি প্রতি কেজি ১২০ টাকা, বাঁধাকপি ১০০ টাকা, মূলা ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।’
বগুড়ার মহাস্থান হাট উত্তরাঞ্চলের প্রধান সবজি ও মসলা বাজার। এখান থেকে প্রতিদিন ট্রাকভর্তি সবজি যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের ৩২টি জেলায়।
প্রবীণ সবজি ব্যবসায়ী হামিদুল হক বলেন, ‘৪০ বছর ধরে এ পেশায় আছি। প্রতিদিন অন্তত তিনটি ট্রাকে সবজি পাঠায়। কখনও কাঁচা মরিচ, কখনও শীতের সবজি।’
সদর উপজেলার মণ্ডল ধরন গ্রামের ইউনুস আলী হাটে বিক্রির জন্য এনেছেন ১৪ কেজি ধনেপাতা। তিনি জানান, এবার দাম ভালো, কেজি ৪০০ টাকা। তবে ক্রেতারা এখন কম পরিমাণে কিনছেন।
দেশি টমেটো ও গাজর এখনো পুরোপুরি বাজারে উঠেনি। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, আরও একমাস সময় লাগবে। আপাতত বাজারে ভারতীয় টমেটো ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি ও চীনা গাজর ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মুলার দাম মণপ্রতি ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা। বেগুন কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। যা গত বছরের তুলনায় বেশি। পাইকারি বাজারে শসার দাম কেজি ৪০ টাকা, খুচরায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোহেল শামসুদ্দীন ফিরোজ বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে উৎপাদনে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। কিন্তু সময় হাতে আছে। মৌসুম শেষে ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হবে বলে আশা করছি।’
তিনি বলেন, ‘গত বছর বগুড়ায় ২ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে শীতের সবজি চাষ করে ৪৩ হাজার ৭২৫ টন ফলন হয়েছিল। প্রতি হেক্টরে গড় ফলন সাড়ে ১৬ টন। চলতি বছর ২ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। ১ হাজার ১০০ টন উৎপাদন হয়েছে। মৌসুম চলমান থাকায় আরও বাড়বে।’
পতাকানিউজ/পিএম/আরবি

