চট্টগ্রাম বেড়েছে মশার উৎপাত। একইসঙ্গে প্রতিদিন হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যু। নভেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৫১২ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের। এমন পরিস্থিতিতে এবার মশা মারতে আমেরিকান প্রযুক্তির লার্ভিসাইট বিটিআই ব্যবহার শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। তবে এতদিন ব্যবহার করা হতো লার্ভিসাইড ওষুধ ‘টেমিপোস ফিফটি। নতুন এ ওষুধ ব্যবহারে দ্রুত রেজাল্ট আসবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
সোমবার, ১ ডিসেম্বর সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ড কার্যালয়ের সামনে প্রথমবারের মতো ব্যাসিলাস থুরিনজেনসিস সেরোটাইপ ইসরায়েলেন্সিস (বিটিআই) ব্যবহার করেছে চসিক।
চসিক সংশ্লিষ্টরা জানান, বিটিআই এটি একটি জৈব উপাদান যা মশা মারতে সাহায্য করে। এ ওষুধ (পাউডার) প্রথমে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানিতে মিশিয়ে ফগার মেশিন দিয়ে নালায় স্প্রে করা হবে। শুরুতে ঝুঁকিপূর্ণ ২৫ এলাকায় এ ওষুধের প্রয়োগ করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমের সব ওয়ার্ড এলাকায় ব্যবহার করা হবে। এ ওষুধ ৯৮-৯৯ শতাংশ কার্যকর।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, চলতি বছর চট্টগ্রাম মহানগর ও উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ৪ হাজার ৫১২ জন। এর মধ্যে নগরে ২ হাজার ৪৬০ জন ও উপজেলায় ২ হাজার ৫২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ২ হাজার ৩৫৩ জন পুরুষ, ১ হাজার ৩৪২ জন নারী ও ৮১৭ জন শিশু। এছাড়া মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের। এদের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ, ৭ জন নারী ও ৫ জন শিশু।
সিভিল সার্জন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) জরিপ সূত্রে জানা যায়, নগরীর ২৫টি এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- কোতোয়ালী, কেপিজেড, হালিশহর, বন্দর, সদরঘাট, বাকলিয়া, বায়েজিদ, পাহাড়তলী, ডবলমুরিং, খুলশী, পাঁচলাইশ, আকবরশাহ, চকবাজার, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, আগ্রাবাদ, পাথরঘাটা, লালখানবাজার, আন্দরকিল্লা, কাট্টলী, দেওয়ানহাট, ২ নম্বর গেট, মুরাদপুর, চন্দনপুরা ও মোহাম্মদপুর। এছাড়া বন্দর, কোতোয়ালী, কেপিজেড, হালিশহর ও সদরঘাটকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, `আমেরিকান প্রযুক্তির লার্ভিসাইট বিটিআই ব্যবহার শুরুতে ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রয়োগ করব। যারা স্প্রে করবেন তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত রেজাল্ট আসবে।’
চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী বলেন, `চট্টগ্রাম নগরীতে মশার উপদ্রব বাড়ায় মাননীয় মেয়র মহোদয় বিশ্বের সবচেয়ে দামি ও কার্যকর পরীক্ষিত ইউএসএতে তৈরি ওষুধ লার্ভিসাইট বিটিআই ব্যবহার শুরু করতে বলেছেন। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। এতদিন আমরা লার্ভিসাইড ওষুধ ‘টেমিপোস ফিফটি’ ব্যবহার করতাম। নতুন এ ওষুধ ছিটানো জায়গা ১৫ দিন নিরাপদ থাকবে।’
প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আরো বলেন, `আমাদের ড্রেনগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে। বিটিআই ব্যবহারে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু পুরো শহরে যদি ওষুধটি ছিটানো যায় তাহলে ভালো রেজাল্ট পাব বলে আশা করছি।’
প্রসঙ্গত, গত ১৩ নভেম্বর থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে চট্টগ্রাম নগরীতে ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করে চসিক।
পতাকানিউজ/আরবি

