বান্দরবান-কেরানীহাট জাতীয় মহাসড়কের দুই পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধিগ্রহণ করা সরকারি জমি দখল করে গড়ে উঠছে একের পর এক স্থাপনা। প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের বিভিন্ন অংশে স্থায়ী-অস্থায়ী দোকান, বসতঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে দখল করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের কারণে সড়কের প্রশস্ততা কমছে। এতে যানবাহন ও পথচারী চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে বাজার, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সড়কের জায়গা দখল করে স্থাপনা গড়ে ওঠায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট।
সম্প্রতি সুয়ালক এলাকায় সওজের জায়গায় রাতে একটি ঘর নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। সওজের নিরাপত্তাপ্রহরী মো. শাহ আলমের অভিযোগ, নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে তাকে জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রাজীবসহ ১০-১৫ জন ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।
শাহ আলম বলেন, ‘রাতের আঁধারে সওজের জায়গায় ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করতে বলি। এ সময় কয়েকজন আমাকে হুমকি দিলে ভয়ে সেখান থেকে চলে আসি।’
শাহ আলমের এমন অভিযোগ অবশ্যই অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম রাজীব। তিনি দাবি করেন, ‘দখলের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না যে ঘরটির কথা বলা হচ্ছে, সেটি নতুন করে নির্মাণ করা হয়নি; আগে থেকেই থাকা ঘরটি সামান্য মেরামত করা হয়েছে।’
সওজ সূত্র জানায়, বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ২২ কিলোমিটার। সড়কের বিভিন্ন অংশে স্থানভেদে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ফুট পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অধিগ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের বিধি অনুযায়ী ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছে। ফলে অধিগ্রহণ করা সরকারি জমি পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন দাবি করে দখল বা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। অনুমতি ছাড়া এসব জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করা হলে তা উচ্ছেদের আওতায় পড়তে পারে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বান্দরবান বাজার, বালাঘাটা, ক্যচিংঘাটা, সুয়ালক বাজার, মাঝেরপাড়া রাস্তার মাথা, বাজালিয়া, বুড়ির দোকান ও কেরানীহাটসহ সড়কের বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে দোকানপাট, বসতঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অনেক অস্থায়ী স্থাপনাই ধীরে ধীরে স্থায়ী রূপ নিচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে দখল চলতে থাকায় নতুন করে সরকারি জায়গা দখলের প্রবণতাও বাড়ছে। একটি স্থাপনা তৈরির পর তার আশপাশে আরও দোকান বা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে সরকারি জমির সীমানা নিয়েও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সড়কের জায়গা দখলমুক্ত করা না হলে ভবিষ্যতে সড়ক সম্প্রসারণ ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা ও যানজটের ঝুঁকিও বাড়বে।

বান্দরবান সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২২ কিলোমিটার এই মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় ১০০ থেকে ১৫০ ফুট পর্যন্ত অধিগ্রহণ করা জায়গা রয়েছে। অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করে উচ্ছেদের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট পাওয়া গেলে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে।
-পতাকানিউজ/আরআর

